পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩০ অক্টোবর: এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুমারগঞ্জ ব্লকের পূর্ব মামুদপুর এলাকায়। খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যা মনে হলেও এই ঘটনা নিয়ে ত্রিকোণ প্রেম ও তার জেরে খুনের অভিযোগ তুলেছেন মৃতের পরিবারের লোকেরা।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ওই যুবকের নাম বেল্লাল হোসেন মন্ডল (৩৫)। বাড়ি পূর্ব মামুদপুরের ঝড়াপাড়া এলাকায়। এদিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় একশো মিটার দূরে একটি আমগাছে তার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। ঘটনার খবর পুলিশকে দিতেই কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ এলাকায় পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তবে অন্যরকম ভাবে ওই যুবকের দেহ গাছে ঝুলতে থাকায় সন্দেহ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। পরিবারের লোকেরা অবশ্য এ ঘটনা নিয়ে সরাসরি খুনের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই বেল্লালকে খুন হতে হয়েছে।
মৃতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে খবর অনুযায়ী, বেশ কিছুদিন ধরে জাকিরপুর এলাকার এক মহিলার সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বেল্লাল। যার কারণে মাঝে মধ্যেই ফোনে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ তার পরিবারের। শনিবার রাতেও ঠিক একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মৃতের পরিবার। তাদের আরো দাবি, ওইদিন রাতে বেশকিছুক্ষণ ফোনে উত্তেজিত হয়ে কথা বলছিল উভয়েই। এরপরে কেউ ডাকতেই বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল সে। তারপরেই এদিন সকালে বাড়ি থেকে সামান্য দূরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে ওই যুবকের দেহ। যাকে ঘিরেই সরাসরি খুনের অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের লোকেরা। একই অভিযোগে সরব হয়েছে প্রতিবেশীরাও। যদিও জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে জানিয়েছেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
মৃতের দাদা অহেদ আলী সরকার বলেন, তার ভাইকে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাকিরপুর এলাকার এক মহিলার সাথে অবৈধ সম্পর্ক ছিল। যার জেরে নানা অশান্তি মাঝেমধ্যেই লেগেই থাকত। গতকাল রাতেও চলছিল সেই ঘটনা। আর এর পরেই এদিন সকালে ভাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। তারা চান ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।

