আমতায় তিনতলা বাড়ির বারান্দা থেকে পড়ে ছাত্র নেতার রহস্য মৃত্যু

আমাদের ভারত, হাওড়া, ১৯ ফেব্রুয়ারি: নিজের নির্মীয়মান বাড়ির তিনতলার বারান্দার জানালা থেকে নীচে পড়ে এক ছাত্র নেতার রহস্য মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল আমতার সারদা দক্ষিণ খান পাড়া এলাকায়। মৃত যুবকের নাম আনিস খান (২৮)।

শুক্রবার গভীর রাতে তাকে বাড়ির নীচে পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের লোকেরা। মৃত ছাত্র নেতার পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের ছদ্মবেশে ৪ জন এসে পরিকল্পনা করে তিনতলার বারান্দা থেকে ঠেলে ফেলে আনিসকে খুন করেছে। জানাগেছে, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া এবং আইএসএফ নেতা আনিস কলকাতার পাশাপাশি এলাকায় প্রতিবাদী মুখ হিসেবে পরিচিত ছিল। ঘটনায় মৃত ছাত্র নেতার বাবা সালাম খান আমতা থানায় একটি খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানোর পাশাপাশি একটি খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার পাড়ার একটি জলসা থেকে গভীর রাতে বাড়ি ফেরে আনিস। রাত ১ টা নাগাদ পুলিশের পোশাক পরে চারজন তাদের বাড়িতে আসে। তিনজন সিভিক সাধারণ পোশাক পরে থাকলেও একজন ছিল পুলিশের পোশাকে এবং তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। জানা গেছে, তারা আনিসের নাম করে ডাকাডাকি করতে থাকলে তার বাবা বৃদ্ধ সালাম খান বেরিয়ে আসেন। তিনি দরজা খুলতে না চাইলেও পুলিশের পোশাক পরা ব্যক্তিরা বলে তারা আমতা থানা থেকে আসছে। আনিসের নামে বাগনান থানায় অভিযোগ আছে। তার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। অভিযোগ, এরপর সালাম খান দরজা খুললে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি তাকে আটকে রাখে এবং তিন সিভিক ভলান্টিয়ার সোজা তিনতলায় উঠে যায়। আনিসের বাবা সালাম খান বলেন, তিনজন উপরে ওঠার কিছুক্ষণ পরেই ধপ করে একটা কিছু পড়ার আওয়াজ শুনি। বাইরে বেরিয়ে দেখি ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় নীচে পড়ে আছে। তিনি জানান, এরপর ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি জানান, ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার মাঝে ওই ৪ জন পালিয়ে যায়।

এদিকে আনিসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শনিবার সকালে এলাকায় প্রচুর লোক জমা হয়ে যায়। খবর পেয়ে আমতা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছালেও স্থানীয় বাসিন্দারা দেহ তুলতে দেয়নি দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের ধরার দাবি করতে থাকে তারা। পরে দশটার পর পুলিশ দেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

এদিকে আমতা থানার পুলিশ তরফে দাবি করা হয়েছে শুক্রবার রাতে আমতা থানা থেকে কোনো পুলিশ সারদা গ্রামে যায়নি। এমনকি অন্য থানা থেকে কেউ এলেও লোকাল থানার পুলিশ বিষয়টি জানতো। কিন্তু থানার পুলিশ না গেলে শুক্রবার রাতে পুলিশের ছদ্মবেশে কারা গিয়েছিল সেটা নিয়ে রহস্য দানা বাঁধছে।

ঘটনা সম্পর্কে হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সৌম্য রায় জানান, মৃত যুবকের বাবা খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। একজন ডিএসপি পদমর্যাদার আধিকারিককে দিয়ে ঘটনার তদন্ত করানো হচ্ছে।

অন্যদিকে শনিবার সকালে মৃত ছাত্র নেতার বাড়িতে যান আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল। তিনি মৃত ছাত্র নেতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এদিন দুপুরে আমতা থানায় আসেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তিনি মৃত ছাত্র নেতার বাবা এবং পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *