আমাদের ভারত, হুগলি, ৭ ডিসেম্বর: চণ্ডীতলায় একই পরিবারের তিনজনের খুনের ঘটনার চব্বিশ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই মূল অভিযুক্তের খন্ডিত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল। মূল অভিযুক্তের নাম শ্রীকান্ত ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনের কামারকুণ্ডু স্টেশনের কাছে রেললাইনের উপর থেকে শ্রীকান্তর খণ্ডবিখণ্ড দেহ উদ্ধার করে জিআরপি।
উদ্ধারের পর প্রথমে মৃতদেহটি শনাক্ত করা যায়নি। পরে অনেক কষ্টে দেহটি শনাক্ত করেন প্রতিবেশীরা। দেহটি শ্রীকান্তর বলে চিহ্নিত করেন তাঁরা। তবে শ্রীকান্ত খুন হয়েছেন নাকি আত্মহত্যা করেছেন, সে বিষয়ে সংশয়ে পুলিশ। প্রতিবেশীদের একাংশের দাবি, সম্পত্তির জন্য খুড়তুতো দাদার পরিবারকে খুনের মতো গুরুতর অভিযোগ মেনে নিতে পারেননি শ্রীকান্ত। তাই ক্ষোভে-অপমানে আত্মহত্যা করেছে শ্রীকান্ত। আবার কারও কারও মতে, তিনজনকে খুনের পর শ্রীকান্তকেও হত্যা করেছে অন্য কেউ। সব মিলিয়ে, তিন খুনের কিনারা করতে গিয়ে পুলিশ আপাতত চারটি হত্যার মামলা করেছে।
উল্লেখ্য, সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে চণ্ডীতলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হয় একই পরিবারের তিনজন। স্বামী, স্ত্রী ও মেয়ে। এই ঘটনায় অভিযোগের আঙুল ওঠে মৃতের জ্যাঠতুতো ভাই শ্রীকান্ত ঘোষের দিকে। সম্পত্তিগত বিবাদের জেরে তিনিই তাঁর খুড়তুতো ভাইয়ের পরিবারকে খতম করেছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান ছিল। মঙ্গলবার সকালে সেই ব্যক্তিরই দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো চমকে গিয়েছেন পুলিশ। নয়া মোড় নিয়েছে গোটা ঘটনা। ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। জানা গিয়েছে, হুগলির চণ্ডীতলার নৈটি এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় ঘোষ, তাঁর স্ত্রী মিতালী ও মেয়ে শিল্পা খুন হন। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরেই সম্পত্তি নিয়ে খুড়তুতো ভাই শ্রীকান্তর সঙ্গে অশান্তি চলছিল সঞ্জয়বাবুর। একাধিকবার তা চরম আকার নেয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সম্প্রতি মুম্বাই থেকে ফিরেছিল শ্রীকান্ত ঘোষ। এরপর একটি চপার কিনেছিলেন তিনি। প্রায়শই তিনি বাড়ির পাশে বসে সেই চপার ধার দিলেন বলে খবর। প্রতিবেশীরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলতেন এটা দিয়ে মানুষ খুন করা যাবে। তারপর এহেন নৃশংশ খুনের ঘটনায় আঁতকে উঠেছেন এলাকাবাসী। পুলিশ জানিয়েছে, শ্রীকান্ত ঘোষের মৃতদেহটি শনাক্ত হয়েছে। গোটা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে তিনি আত্মহত্যা করেছেন না খুন হয়েছেন সেটা ময়নাতদন্তের পরই বোঝা যাবে।

