আমাদের ভারত, হুগলী, ৬ ডিসেম্বর: সিঙ্গুরে একই পরিবারের চারজনের খুনের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের একই পরিবারের তিনজনের খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে চণ্ডীতলা থানার নৈটি এলাকায়। এই ঘটনায় মৃত ব্যক্তিরা হলেন, সঞ্জয় ঘোষ (৪৫), মিতালী ঘোষ (৩৬) ও শিল্পা ঘোষ (১৭)। বাড়ি চণ্ডীতলা থানার নৈটি এলাকাতেই। গোটা ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে সঞ্জয় ঘোষের জ্যাঠতুতো ভাই শ্রীকান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে। এই পৌচাশিক খুনের ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্পত্তি নিয়ে সঞ্জয় ঘোষের সঙ্গে শ্রীকান্ত ঘোষের একটা ঝামেলা চলছিল। এই ঘটনা প্রতিবেশীরা জানতেন। তবে এই কথা ঘোষ পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীদের কাছে কখনই বলেননি। সম্প্রতি মুম্বই থেকে চণ্ডীতলায় ফিরেছিলেন শ্রীকান্ত ঘোষ৷ তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে খুব একটা মেলামেশা করতেন না৷ সর্বক্ষণই আনমনা হয়ে থাকতেন৷ কিন্তু, কি কারণে তাঁর এমন আচরণ সেটা স্থানীয় বাসিন্দারা বুঝতে পারেননি৷ কিন্তু, পারিবারিক বিবাদ নিয়ে কোনও পক্ষই কখনও বাইরের কারও সঙ্গে আলোচনা করেনি৷

এদিন সকালে হঠাৎই সঞ্জয় ঘোষের বাড়িতে চিৎকার চেঁচামিচি শুরু হয়৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হঠাৎই কোনও কারণে ক্ষেপে উঠেছিলেন শ্রীকান্ত৷ তিনি সঞ্জয়ের বাড়িতে ঢুকে প্রথমে তার উপরে হামলা করে৷ শাবল দিয়ে সঞ্জয়ের মাথায় আঘাত করে শ্রীকান্ত৷ তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে শুরু করে৷ স্বামীর চিৎকার শুনে ঘর থেকে ছুটে আসেন স্ত্রী মিতালী৷ স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করতেই মিতালীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন শ্রীকান্ত৷ তাঁকেও একইভাবে খুন করা হয়৷
বাবা-মায়ের এই অবস্থা দেখে পালিয়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী শিল্পা৷ তাকে পালাতে দেখে পিছনে তেড়ে যায় শ্রীকান্ত৷ ভাইঝির চুলের মুঠি ধরে তাকে টেনে আনেন তিনি৷ প্রাণভিক্ষা চেয়ে কাকার কাছে কাকুতি মিনতি করতে থাকে শিল্পা৷ কিন্তু, তাতেও কোনও লাভ হয়নি৷ শিল্পাকেও একইভাবে শাবল দিয়ে মাথায় আঘাত করেন শ্রীকান্ত৷ আহত হয়ে রাস্তাতেই পড়ে যায় ভাইঝি৷ তারপর তাকে উন্মত্তের মতো কোপাতে থাকে শ্রীকান্ত৷ এই ঘটনার পরই এলাকা ছেড়ে চম্পট সে দেয়৷
অন্যদিকে, খুনের এই খবর চাউর হতেই সঞ্জয়ের বাড়ির সামনে এসে জড়ো হন প্রতিবেশীরা৷ খুনের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় চণ্ডীতলা থানার পুলিশ৷ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে পাঠানো হয়৷ পুলিশের পাশাপাশি এলাকার বাসিন্দারাও শ্রীকান্তর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করে দেন৷ শ্রীকান্ত ও তাঁর দাদা তপন ঘোষের বাড়িতে ভাঙ্গচুর চালানোরও অভিযোগ ওঠে এলাকাবাসীর একাংশের বিরুদ্ধে৷ পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। গোটা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

