পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ২৫ এপ্রিল: মেয়ে হওয়ার অপরাধে সদ্যোজাত সন্তানকে ঝোপের মধ্যে ফেলে পালিয়ে গেল মা। কান্নার শব্দ পেয়ে শিশু কন্যাটিকে উদ্ধার করে পথচলতি মানুষ। রবিবার রাতে বালুরঘাটের দোগাছি ফরেস্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ওই সদ্যোজাতও শিশু কন্যাটিকে। এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বালুরঘাট শহর লাগোয়া বোয়ালদাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের দোগাছি এলাকায়।

জানা যায়, রবিবার রাতে সোহম মার্ডি ও মিনতি সরেন নামে স্থানীয় এক দম্পতি বালুরঘাটের দোগাছি ফরেস্টের মধ্য দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় অন্ধকারের মধ্যে একটি শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে কিছুটা আঁতকে ওঠেন তারা। এরপরেই তাদের চিৎকারে ছুটে আসে আশপাশের লোকেরা। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। রাতেই ফরেস্টের মধ্যে থেকে অক্ষত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে রাখেন ওই আদিবাসী দম্পতি। বিষয়টি জানাজানি হতেই সোমবার সকালে উদ্ধার হওয়া ওই শিশু কন্যাটিকে বালুরঘাট থানায় নিয়ে যান আদিবাসী দম্পতি। এরপরেই পুলিশ প্রথমে শিশুটির শারিরীক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায় বালুরঘাট হাসপাতালে। যেখান থেকেই জানানো হয় শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। এরপরেই উদ্ধার হওয়া ওই শিশু কন্যাটিকে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেয় বালুরঘাট থানার পুলিশ। তবে রাতের অন্ধকারে ওই সদ্যোজাত শিশু কন্যাটিকে কে বা কারা ওই ফরেস্টের মধ্যে রেখে গিয়েছে তা নিয়ে জোর তদন্তে নেমেছে বালুরঘাট থানার পুলিশ।
এবিষয়ে উদ্ধারকারী মিনতি সরেন ও মিনতি হাঁসদারা বলেন, রাতের অন্ধকারে ফরেস্টের মধ্যে ওই শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনে যথেষ্টই আঁতকে উঠেছেন তারা। যাকে উদ্ধার করে রাতে তারা নিজেদের হেফাজতেই রেখেছিলেন। শিশুটিকে দেখে মনে হচ্ছিল সদ্যোজাত। তবে কন্যা সন্তানের জন্যই হয়তো তার বাবা মা এভাবে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে চলে গিয়েছে। বর্তমানে শিশুটিকে পুলিশের মাধ্যমে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে চাইল্ড লাইনের সদস্য তনুশ্রী শীল বলেন, শিশু উদ্ধারের এমন খবর পেয়েই থানায় এসেছেন। শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। চাইল্ড ওয়েল ফেয়ার কমিটির মাধ্যমেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে কন্যা সন্তানের জন্যই হয়তো শিশুটিকে ফেলে রেখে গেছে তার পরিবার।
অন্যদিকে জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে বলেন, খবর পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়েছে। চাইল্ড ওয়েল ফেয়ার কমিটিতে তোলার পর শিশুটিকে হোমে রাখা হবে। পাশাপাশি শুরু করা হয়েছে শিশুর বাবা মার খোঁজ।

