আমাদের ভারত, ৯ ফেব্রুয়ারি: লোকসভার পর বৃহস্পতিবার রাজ্যসভাতেও আদানি প্রসঙ্গে একটি শব্দ খরচ না করে, আক্রমণাত্মক ভাষায় বিরোধীদের তোপ দেগেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আদানি বিতর্কের আবহে কংগ্রেসসহ বিরোধীদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিরোধীদের হাতে কাদা রয়েছে বলেই ছুড়ছেন। যত কাদা ছুড়বেন ততই পদ্ম ফুটবে।
বৃহস্পতিবার তিনি মূলত কংগ্রেসকেই নিশানা করেছিলেন। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষ, নেহেরুকে নিয়ে অবহেলা হলে কয়েকজন অভিযোগ করেন? কিন্তু গান্ধী নেহেরু পরিবারের কেউ নেহেরু পদবী ব্যবহার করেন না কেন?
বিজেপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজ্য সরকার ফেলার যে অভিযোগ করে বিরোধীরা, বৃহস্পতিবার তারও পাল্টা দিয়েছেন মোদী। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নাম করে তিনি বলেন, রাজ্য সরকার ফেলতে ৫০ বার রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
লোকসভার মতো রাজ্যসভাতেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের গোড়া থেকে স্লোগান দিতে থাকেন বিরোধীরা। কখনো শোনা যায়, “আদানি মোদী ভাই ভাই”। আবার কখনো “মোদীজি জবাব দাও” স্লোগান। তবে বিরোধীদের হট্টগোল স্লোগানের মধ্যেও আদানি সম্পর্কে একটি শব্দও বলেননি প্রধানমন্ত্রী, বরং পরিবর্তে নিজের সরকারের উন্নয়নে খতিয়ান তুলে ধরেছেন।ক্রমাগত স্লোগান হট্টগোলের মধ্যে নিজস্ব ঢঙে বিরোধীদের আক্রমণের জবাব দিয়েছেন মোদী। বক্তব্যের মাঝে কয়েক ঢোক জল খেয়েছেন তিনি। বিরোধীদের হট্টগোলে পাল্টা হেসে মোদীর কটাক্ষ, “আপনারা এখানে চেঁচামেচি করছেন মানুষ আপনাদের কথা শুনছে না। আমরা মানুষের আস্থা অর্জন করেছি।
আজ লোকসভা থেকে রাজ্যসভায় আরো আক্রমণাত্মক লেগেছে মোদীকে। ভাষণের শুরুতেই কংগ্রেসকে নিশানা করে মোদী বলেন, কংগ্রেসকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে, ওদের দুর্দশা বুঝতে পারছি। ভারতে কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে বিজেপি। তাই উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে কংগ্রেস। তিনি বলেন, কংগ্রেস সরকারের আমলে কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার যদি উন্নয়নমূলক কাজ করতো তাহলে আজ এত পরিশ্রম করতে হতো না।
কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শুধু ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতির অভিযোগ করেছেন মোদী। তাঁর কথায় ওরা শুধু ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি করে, তাই দেশবাসীর দিকে তাকাতে পারেনি। ওদের উদ্দেশ্য অন্য।
বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার ৮৪ মিনিটের ভাষণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মোদীর বক্তব্যে বার বার উঠে এসেছে তার সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কথা। মোদী বলেছেন, “মানুষের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে কাজ আমি করি। আমরা আরামের রাস্তা বেছে নিইনি। পরিশ্রমের রাস্তায় হেঁটেছি। যখন দেখি আমাদের পরিশ্রমের ফলে দেশবাসীর মুখে হাসি ফুটছে, তখনই কষ্ট সার্থক হয়।”

