আমাদের ভারত, দিঘা, ৬ মে: বীরভূমের নলহাটি থেকে নির্মাণ কাজের জন্য দিঘায় এসেছিলেন ১০ জনের একটি শ্রমিকদের দল। লকডাউনের দুমাস মাস আগে দলটি দিঘায় কাজে আসে। দিঘাতে কাজ চলাকালীন আচমকা লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এর ফলে বন্ধ হয়ে যায় সমস্ত কাজকর্ম। বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন বাস। বীরভূমের শ্রমিক দলটিকে থেকে যায় দিঘাতে। এতদিন পর্যন্ত জমানো টাকা দিয়ে দিঘার বুকে দিন কাটান এইসব শ্রমিকরা। কিন্তু কাজ না থাকায় জমানো টাকাতেও টান পড়তে শুরু করে। তাই লকডাউনের মাঝেই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তারা।
গাড়ি ঘোড়া সব বন্ধ তাই পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার চেষ্টা। কিন্তু সড়কপথে বা গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে বাড়ি ফেরার জন্য হাঁটা দিলে যে কোনও মুহূর্তে পুলিশ আটকাতে পারে তাদের। তাই সড়কপথে আসার চেষ্টা না করে এই নির্মাণ শ্রমিকদের দল সিদ্ধান্ত নেয় তারা ট্রেনলাইন বরাবরই হেঁটে যাবেন এবং বাড়ি পৌঁছবেন। কারণ এই সময়ে ট্রেন বন্ধ। সড়ক পথে হাঁটায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল পুলিশ এবং গ্রাম্য পথেও বিভিন্ন জায়গায় মানুষজন অপরিচিত মানুষকে দেখলে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল। আর এই সমস্ত বাধা বিপত্তি এড়িয়ে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য দলটি বেছে নেন ট্রেনলাইন।
দিঘা থেকে ট্রেন লাইন বরাবর হাঁটতে হাঁটতে তারা ৩৫ কিমি হেঁটে পৌঁছে যান কাঁথি স্টেশনে। আর তারপরেই ঘটে বিপত্তি। কাঁথিতে রেল পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি। তৎক্ষণাৎ পুলিশ এই শ্রমিক দলটিকে আটক করে এবং কাঁথি থানার হাতে তুলে দেয়। কাঁথি মহকুমা প্রশাসনের তরফে পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং সেই সঙ্গে তাদের কিভাবে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে প্রশাসনের।

