আমাদের ভারত, ১ জুলাই: শনিবার থেকে হায়দ্রাবাদে বসতে চলেছে বিজেপির দু’দিনের জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক। আগামীকাল দুপুরে বৈঠকের উদ্বোধন করবেন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা। রবিবার সেখানে জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। প্রধানমন্ত্রীর সভায় ভিড় আগের সব রেকর্ড ছাপিয়ে যাবে বলে দাবি করেছে তেলেঙ্গানা বিজেপি।
শহরের একটি অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টারে সভার আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং বিজেপি সভাপতি নাড্ডা ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ বহু ভিভিআইপি আজ থেকে সোমবার পর্যন্ত হায়দ্রাবাদে থাকবেন। এদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই কনভেনশন সেন্টারে চারপাশে ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ওই এলাকায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে ড্রোন’ ওড়ানো।
কর্মসমিতির বৈঠকে বিজেপির নীতিগত বিষয় ছাড়াও আশু রাজনৈতিক কৌশল ঠিক হয়ে থাকে। এবারের বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি প্রসঙ্গ উঠতে পারে বলে দলের এক অংশের ধারণা। তবে এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বছর শেষে গুজরাট ও হিমাচল প্রদেশ বিধানসভা ভোট। সেই ভোট নিয়ে আলোচনা হবে। ওই দুই রাজ্য বিজেপির দখলে। তবে সূত্রের খবর, হায়দ্রাবাদে জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠকে এবার সব থেকে বেশি প্রাধান্য পাবে তেলেঙ্গানা।
বিজেপির দক্ষিণের রাজ্য গুলির মধ্যে কর্ণাটক ছাড়া আর কোনো রাজ্যে বিজেপি এখনো ক্ষমতা দখল করতে পারেনি। কিন্তু দল মনে করছে তেলেঙ্গানায় সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তেলেঙ্গানায় শাসকদলের শাসনের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণে দ্বিতীয় রাজ্য বিজয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছে বিজেপি। তার জন্য ইতিমধ্যেই উঠে পড়ে লেগেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মে মাসে মোদী নাড্ডা রাজ্য সফর করেছেন। সেখানে বিজেপির বিরোধী পক্ষ শাসক দল টিআরএস এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। কিন্তু মে মাসের সফরে তেলেঙ্গানার মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকে তুলোধোনা করে দাবি করেছেন বিধানসভা ভোটের আগেই বিজেপি নিজেদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছে। আগামী বছরই রাজ্য সরকার পতন অবশ্যম্ভাবী। সরকার গড়বে বিজেপি। একই দাবি করেছেন অমিত শাহও। নাড্ডা বিগত কয়েক মাস যাবত চন্দ্রশেখর রাও সরকারের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছে। কেন্দ্র সরকারের দূরত্ব এতটাই যে রাজ্য সফরে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দর পর্যন্ত স্বাগত ও বিদায় জানাতে যাওয়ার সৌজন্যতাও দেখাননি তিনি।
অন্যদিকে বিজেপি জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠককে কেন্দ্র করে হায়দ্রাবাদের আনাচে কানাচে বিজেপি আর টিআরএসের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। বিজেপি অভিযোগ জানিয়েছে, তারা হায়দ্রাবাদের আশেপাশে প্রধানমন্ত্রীর ছবি সহ হোর্ডিং দিতে গিয়ে জানতে পারেন তেলেঙ্গানা সরকার সেগুলি আগে থেকে বুক করে রেখেছে। ফলে বাধ্য হয়ে পরিকল্পনা বদল করে শহরের অলিতে গলিতে ছবি লাগানো হয় মোদীর। পরে সেই সব জায়গাতেই কেসিআরের ছবিও লাগানো হয়েছে।

