আমাদের ভারত, পূর্ব মেদিনীপুর, ২৪ আগস্ট: আর পাঁচটা জন্মদিনের মতো জন্মদিন পালন না করে একটু অন্যভাবে দিনটি পালন করলেন তমলুকের মাইতি পরিবার। ছেলের জন্মদিনে বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও অপারেশন শিবির করে জন্মদিন পালন করলেন তারা। ছেলে স্পন্দনও বাবা-মার এই কাজে খুশি। সেও চায় মানুষের এই ভাবেই পাশে দাঁড়াতে।
জন্মদিন মানেই কেক কাটা। সারাদিন বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সাথে মজা হৈ-হুল্লোড় করা। জমিয়ে খাওয়া দাওয়া, বেশিরভাগ মানুষই এটাই করে থাকে। তবে তমলুকের এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সনৎ কুমার মাইতি ও দেবশ্রী মাইতির একমাত্র পুত্র স্পন্দন মাইতির জন্মদিনের চিত্রটা ছিল অন্যরকম। সনৎ বাবু কোলকাতা মেট্রো রেলের পাইলট, মা দেবশ্রী মাইতি একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সাথে যুক্ত। মাইতি পরিবারের এই কাজে সহযোগিতা করেছে দুটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাম্রলিপ্ত ফয়েজ হিউম্যানিটি ইন পাওয়ার এবং তাম্রলিপ্ত হেল্পিং হ্যান্ড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। এই পরিবারের পুত্রের প্রতিবারেই জন্মদিনের দিনটা কাটতো বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে অসহায় মানুষদের পাশে থেকে। গ্রামের সাধারণ গরিব মানুষদের কখনো জামাকাপড় দেওয়া, কখনো খাবার বিলিয়ে তারা পালন করতেন ছেলের জন্মদিন। স্পন্দন এই দিনটিকে এই ভাবেই দেখে এসেছে এবং এই ভাবেই পালন করতে স্পন্দন বেশি পছন্দ করে। এ বছর পড়াশোনার চাপ ও কোভিড পরিস্থিতির কারণে সে সুযোগ হয়ে ওঠেনি। তাই ১২ বছর অতিক্রান্ত হওয়া ছেলে স্পন্দন তার বাবা-মাকে জানায় তার জন্মদিনে কেক না কেটে যদি বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা শিবির শিবির করা যায় তাহলে সেটাই তার কাছে এবারের সবথেকে বড় উপহার হবে বাবা-মার থেকে।

সেই মত মঙ্গলবার সকালে জন্মদিন উপলক্ষ্যে বাড়িতেই বসে বিনা ব্যয়ে চক্ষু পরীক্ষা শিবির। বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে প্রায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ এদিনে শিবিরে বিনা ব্যয়ে চক্ষু পরীক্ষা করান। ছেলেকে এই ধরনের উপহার দিতে পেরে খুশি বাবা- মা। জন্মদিনে কেক কাটা না হলেও অন্য ধরনের উপহার পেয়ে আপ্লুত ১২ বছরের ছোট্ট ছেলে স্পন্দন। জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই বিনা ব্যয়ে চক্ষু পরীক্ষা করাতে পেরে মুখে খুশির ছাপ শিবিরে আসা সাধারণ মানুষ জনের। আজকেই চক্ষু পরীক্ষা শিবির করতে মাইতি পরিবারকে সর্বতোভাবে সাহায্য করেছে হলদিয়ার চৈতন্যপুরের বিবেকানন্দ মিশন আশ্রম নেত্র নিরাময় নিকেতন।
স্পন্দনের মা দেবশ্রী মাইতি জানান, দীর্ঘদিন থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে তারা আছেন। এই ভাবেই থাকতে চান। সাধারণ মানুষের যাতে উপকার হয় সেই চেষ্টাই তারা করে যাবেন। স্পন্দন এখন থেকেই বাবা-মায়ের এই কাজের সাথী হতে চায়। সেও চায় এই ভাবেই আগামী দিনে সমাজসেবায় নিজেকে সঁপে দিতে।


