আমাদের ভারত, ২০ জুলাই:
মণিপুরে দুই মহিলাকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানো এবং গণধর্ষণ মামলার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনা ঘটার ৭৭ দিন পর মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই ভিডিও সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রের তরফে। ঘটনাটির বর্তমানে তদন্ত চলছে তাই, সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মকে ভারতীয় আইন মেনে চলতে হবে।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরই জানা যায়, ইম্ফল থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে কানকোকপি জেলায় পুলিশের এফ আই এর অনুযায়ী নির্যাতিতা মহিলাদের পরিবারের দুই সদস্যকে খুন করা হয়েছিল। গত ৪ মে একটি কুকি পরিবারের পাঁচ সদস্য আতঙ্কে জঙ্গলে লুকিয়ে ছিল। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে, কিন্তু পুলিশের হাত থেকে তাদের ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে খুন করা হয়। তারপর দিন দুই নারীকে নগ্ন করে হাটানো হয়। ২১ বছর বয়সী মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয়। পরে ওই তিন মহিলা কোনওরকমে পালিয়ে আসেন।
২১ জুন পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। টুইট করে বিজেপির মন্ত্রী লেখেন, মণিপুরে দুইজন মহিলা যৌন নির্যাতনের ভয়াবহ যে ভিডিও সামনে এসেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়, সম্পূর্ণ অমানবিক। তিনি জানান, এই ঘটনায় মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিংয়ের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। স্মৃতি টুইটারে লেখেন, “মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং আমাকে জানিয়েছেন যে ঘটনা তদন্ত চলছে। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার জন্য সব কিছু করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন ।”
গত ৩ মে জাতিগত হিংসা শুরু হয় মণিপুরে। মাঝখানে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত ছিল, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এখনো পর্যন্ত কয়েক হাজার জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চুরা চাঁদপুর, মোরে কাকচিং এবং কানকো কপি জেলা থেকে অধিকাংশ মানুষকে সরানো হয়েছে। হিংসার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। হিংসা থেকেও রেহাই পায়নি শিশু বা মহিলা কেউই।

