রাজেন রায়, কলকাতা, ২৭ এপ্রিল: করোনা সংক্রমণে পরিস্থিতি বুঝে রাজ্যগুলোকে কনটেইনমেন্ট জোন বিবেচনা করে জোনভিত্তিক লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল কেন্দ্র। রাজ্যে অষ্টম তথা শেষ দফার ভোটের দিনেই কলকাতায় কনটেনমেন্ট জোনের তালিকা ঘোষণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোনের তালিকাও প্রকাশ করা হবে। কলকাতার পরে ধাপে-ধাপে রাজ্যের অন্য জেলাতেও কনটেনমেন্ট ও মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোনের তালিকা ঘোষণা করা হবে। তারপরেই কোনও বিশেষ কনটেইনমেন্ট জোন লকডাউনের আওতায় পড়বে কিনা সেটা বুঝে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য প্রশাসন।
গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়। দুই জেলাতেই দৈনিক সংক্রমণ তিন হাজারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলী সহ অন্যান্য জেলাতেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অবশ্য সরাসরি লকডাউনের রাস্তায় না হেঁটে যে সব এলাকায় মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ বেশি সেই সব এলাকাকে কনটেনমেন্ট জোন ও মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করার জন্য রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মঙ্গলবার বিকালে নবান্ন থেকে জেলাশাসকদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় দু’ঘন্টা ধরে চলে বৈঠক। সূত্রের খবর, অক্সিজেন নিয়ে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য ২৪ ঘন্টা নজরদারি চালানোর জন্য জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। অক্সিজেন নিয়ে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি না হয় তা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অক্সিজেন নিয়ে কালোবাজারি রোখার পাশাপাশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রাখার জন্যও জেলাশাসকদের বলা হয়েছে।

