লেন্স বন্দি করম পরবকে বইয়ের আকার দিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী পুরুলিয়ার স্বরূপ

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৮ আগস্ট: ১৬ বছর ধরে লেন্স বন্দি করম পরবকে বইয়ের আকার দিলেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী পুরুলিয়ার স্বরূপ দত্ত। করম পরবের আগে তাঁর এই অনন্য কীর্তি জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হলেন। করম পরবের বিভিন্ন মুহূর্ত লেন্স বন্দি করেছেন স্বরূপ। এরকম বাছাই করা পঞ্চাশটি সাদাকালো ছবি দিয়েই’করম অফ পুরুলিয়া’ তৈরি করেছেন তিনি। বইটির মূল প্রবন্ধ ইংরেজিতে লিখেছেন মানবাজার গভর্নমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ অভিজিৎ সরকার। বিখ্যাত চিত্রকর রামানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় বইটির ভূমিকা লিখেছেন। প্রকাশক, নাটমন্দির কথা কও থেকে রঞ্জন আচার্য। বইটির কভার লে-আউট দিয়েছেন নিজেই।

৪৯ বছর বয়সী স্বরূপ দত্তর পেশা এবং নেশা – ফটোগ্রাফি। প্রকৃতির বিভিন্ন রঙ, শোভা, মুহূর্ত এবং ঘটনাকে লেন্স বন্দি করতে ভাল লাগে তাঁর। আরও বেশি ভাল লাগে তাঁর তোলা সেই ছবি যখন অন্যদের উৎসাহিত করে, অনুপ্রেরণা জোগায়। বাংলা বিষয়ে স্নাকোত্তর স্বরূপবাবু ১৯৯৭ সাল থেকেই সারা ভারত প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন নামী-দামী সংস্থার দ্বারা আয়োজিত ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতায় পুরস্কৃত হয়েছেন। পশ্চিম বঙ্গ রাজ্য সরকারের কলকাতায় অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় ২০১২, ২০১৩ এবং ২০১৪ সালে বিষয় ভিত্তিক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছেন। সব মিলিয়ে ২৪টিরও বেশি পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। এছাড়া চারটি জাতীয় স্তরের পুরস্কার তার ঝুলিতে রয়েছে। পেন্টিংস অফ পুরুলিয়া নামে একটি ফটোগ্রাফির এলবাম ২০১০ সালে প্রকাশ করেছেন এই আলোকচিত্রী। পরে দ্বিতীয়টি প্রকাশিত হয়েছে ‘পরব’ নামে। সেখানে তাঁর নিজের জেলা পুরুলিয়ার লোক ও গ্রামীণ উৎসবের বিভিন্ন চিত্র তথ্য দিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন। এছাড়া ছয়টি ডকুমেন্ট্রি তৈরি করেছেন বিশিষ্ট সংস্কৃতিক ও বিশিষ্টজনদের নিয়ে। বিখ্যাত চিত্র পরিচালক বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত থেকে শুরু করে ইটালিয়ান পরিচালক ইটাল স্পিনেলি, সোহিনী দাশগুপ্ত, সংঘমিত্রা চৌধুরী, রাজ চক্রবর্তী, কৌশিক গাঙ্গুলী প্রমুখদের একাধিক ছবিতে স্থির চিত্র হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৫ তাঁর ঝুলিতে জাতীয় পুরস্কার পান। তাঁর এই পুরস্কার পুরুলিয়া জেলাকে সমৃদ্ধ করে।

স্বরূপ বাবু তাঁর এই বই প্রসঙ্গে বলেন, “করম পরবের বিভিন্ন আচার রীতি চাক্ষুষ করে ছবিগুলো তুলেছি। পাঠক ও দর্শকদের ভালো লাগলে এই প্রয়াস সার্থক হবে বলে মনে করি।” তিনি আরও জানান, লকডাউনে এই বইটি আগ্রহীদের বাড়িতে পৌঁছে যাবে শুধুমাত্র যোগাযোগ করতে হবে তার মোবাইল নম্বরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *