আমাদের ভারত, ৪ জানুয়ারি: চলতি বছরের বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরা বিধানসভা বাম মুক্ত হবে। বৃহস্পতিবার উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরে বিজেপির জন বিশ্বাস যাত্রার উদ্বোধন করতে গিয়ে এই মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৩ সালের বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরা বিধানসভা পুরোপুরি বাম মুক্ত হবে বলে দাবি বিজেপির চাণক্যর।
ত্রিপুরা ভোটের মুখে বিজেপির শ্লোগান শোনা গেছে আজ শাহের মুখে। “উন্নত ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা সমৃদ্ধ ত্রিপুরা”… এটাই বিজেপির নতুন স্লোগান ত্রিপুরা ভোটে।
ত্রিপুরার প্রাক্তন বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ বিপ্লব দেবের গোমাতি জেলার বাড়িতে সিপিএম কর্মী সমর্থকদের হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বিকেল থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। আর সেই পরিস্থিতিতেই অমিত শাহের এই বাম মুক্ত বিধানসভার মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী প্রায় ১ দশক ধরে “কংগ্রেস মুক্ত ভারত” গড়ার কথা বলে আসছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রথম বিজেপির শীর্ষ স্তরের কোনো নেতা জনসভা থেকে কংগ্রেস ছাড়াও অন্য কোন রাজনৈতিক শক্তিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করার কথা বললেন। যদিও এই কথা বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতাদের মুখে প্রায়শই শোনা যায়।
ধর্মনগরের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ত্রিপুরায় সাবরুম থেকেও জন বিশ্বাস যাত্রার সূচনা করেন অমিত শাহ। সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট এক হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে এই জন বিশ্বাস যাত্রা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, জঙ্গিগোষ্ঠী এমএলএফটি’কে মূল স্রোতে এনে ত্রিপুরায় শান্তি ফিরিয়েছে বিজেপি।
আর মাত্র ২ মাস বাকি বিধানসভা ভোটের। তার আগে ত্রিপুরায় দল ছেড়েছেন ৬ জন বিজেপির বিধায়ক নেতা। ২০১৮-র মার্চ মাসে জনজাতি সম্প্রদায়ের সংগঠন আইপিএসটির সঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপি ত্রিপুরায় ক্ষমতায় এসেছিল। আড়াই দশকের বাম শাসনের অবসান হয়েছিল উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন বিপ্লব দেব। কিন্তু ২০২১ থেকে বিজেপির পরিষদীয় দলে ভাঙ্গনও দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই বছরের মে মাসে বিপ্লবকে সরিয়ে মানিক সাহাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়।

