গোটা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা একদম তলানিতে ঠেকেছে: শুভেন্দু

আমাদের ভারত, হুগলী, ১০ জুন: এই রাজ্যে সরকার নেই। এই রাজ্যে আইন শৃঙ্খলা নেই। এই রাজ্যে পুলিশকে দর্শক সাজিয়ে রাখা হয়। তাই গোটা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা একদম তলানিতে ঠেকেছে। মানুষের জীবন সম্পত্তি সব দুর্বৃত্তদের হাতে। তথাকথিত মুখ্যমন্ত্রী দুর্বৃত্তদের হাতে সব ছেড়ে দিয়েছেন। শুক্রবার সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা জনসভা করতে এসে এই অভিযোগ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও ওই মঞ্চে হাজির ছিলেন, সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি সহ একাধিক বিধায়ক ও বিজেপি নেতা কর্মীরা।

এদিন ওই সভায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী বারবার বলেন, ফেডারেল স্ট্রাকচার ভাঙা হচ্ছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ফ্র্যাকচার ভেঙে দিচ্ছেন। কামারকুন্ডু উড়ালপুল তৈরি করতে খরচ হয়েছে ২৬ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা। এরমধ্যে ১৮ কোটি টাকা রাজ্য সরকার দিয়েছে। অথচ এই ব্রিজ উদ্বোধনের ভারত সরকারের কাউকেই দেখা যায়নি। তাই এদিন ফের রেলের উদ্যোগে সেতুর উদ্বোধন হলো। এদিন সিঙ্গুরের কামারকুন্ডু রেল মাঠে বিজেপির সভায় হাজির হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রী আপনি শিল্পের যে সর্বনাশ করেছেন, তাতে আগামী বেশ কয়েকটা প্রজন্ম তার ফল ভোগ করবে। কারণ এদের কোনও শিল্পনীতি নেই। জমি নীতি নেই।

এদিন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার সারাদিন পশ্চিমবাংলায় যা চলছে, সেই চলার মধ্যে দিয়ে পরিষ্কার আমরা বাংলার মানুষ ভুল জায়গায় ভোট দিয়েছি। এদিন গোটা হাওড়া জেলা বিচ্ছিন্ন। কলকাতা বিচ্ছিন্ন। আমাদের ৫০ কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়েছে। আমরা বিজেপি করি। আটকাতে আপনারা পারবেন না।

এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০২১ সালে রাজ্যে ঋণের পরিমাণ ছিল এক লক্ষ ৯৮ হাজার কোটি টাকা। আজ ঋণের পরিমাণ ৫ লক্ষ ৬২ হাজার কোটি টাকা। বাইরের রাজ্যে গিয়ে নির্মাণ শ্রমিকরা কাজ করছেন। যেটা আগে ছিল পাঁচ লাখ। এখন হয়েছে ৫৪ লাখ। আগে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ছিল। এখন কোনো এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নেই। বেকাররা নাম নথিভুক্ত করতে পারেন না। বর্তমানে রাজ্যে দু’ কোটি বেকার। পশ্চিমবাংলায় ৬ লক্ষ স্থায়ী চাকরি, সরকার ক্যাবিনেট করে অবলুপ্তি করে দিয়েছে। পশ্চিমবাংলায় গত ১১ বছরে কোনো চাকরি হয়নি। কিন্তু, চাকরির দুর্গন্ধ টিভি খুললেই দেখা যাচ্ছে। পরেশ অধিকারীর মেয়ের নাম কোথাও নেই। তবুও তিনি চাকরি পাচ্ছেন। এটা তো সবে শুরু। এখনো অনেক কিছু বাকি আছে।

এদিন শুভেন্দু বলেন, এসএসসিতে লটর পটর হয়ে গিয়েছে। ১৪ সালের প্রাইমারি। ১৭ সালের প্রাইমারি। কোথায় যাবেন আপনারা? এদিন বিরোধী দলনেতা বলেন, আপনারাই সিঙ্গুরে খোঁজ নিয়ে দেখুন দু’ ধরনের লোক চাকরি পেয়েছেন। তৃণমূল নেতার বাড়ির লোক। সে যে কেউ হতে পারেন। অপর এক সম্প্রদায়ের চাকরি আপনি খুঁজে পাবেন। যারা কন্ট্রাকচুয়াল এ ৫ লাখ প্রাইমারিতে ১২ লাখ। এসএসসিতে ১৮ লাখ। কলেজ সার্ভিস কমিশনের ২৫ লাখ টাকা দিয়ে চাকরি কিনেছে। এই দু’ ধরনের বাইরে আপনি কোনো লোককে চাকরি পেতে দেখবেন না। রাজ্যে এটাই কর্মসংস্থান।

এরপর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, শিল্প তো আগেই চলে গিয়েছে। শিল্পী কেকে’কে মেরে ফেলার পর শিল্পীরা আর বাংলায় আসতে চাইছেন না। ওই মঞ্চ থেকেই এদিন রাজ্য সরকারকে এক হাত নিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, যে তাণ্ডব চলছে এনএইচ ফোর এর ওপর, বাসন্তী এক্সপ্রেসের ওপর ও পার্কস্ট্রিট ৭ পয়েন্টে চলছে। আপনারা তাণ্ডবের এই ছবিগুলো শুধু দেখতে থাকুন। বাংলা কাদের হাতে চলে গিয়েছে। কারা শাসন করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *