ঝালদা পুরসভা বোর্ড গঠনের চাবিকাঠি বহিস্কৃত তৃণমূল কাউন্সিলরের হাতে, দলনেত্রীর ঘোষণায় বিপাকে জেলা তৃণমূল

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১১ মার্চ: দলের সুপ্রিমোর ঘোষণায় বিপাকে পড়েছে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেস। বহিষ্কৃত এক নেতা পুরভোটে হয়ে নির্ণায়কের ভূমিকায় রয়েছেন ঝালদা পুরসভায়। এদিকে তৃণনূল সভানেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, দলের থেকে নির্দল হয়ে পৌরভোটে দাঁড়ানো প্রার্থী যাঁরা আবার তৃণমূলের প্রার্থীকে হারিয়েছেন তাঁদের দলে ফেরানো যাবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় চরম বিপাকে পড়ে গেছে পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল। জেলার ঝালদা পৌরসভা এবার ত্রিশঙ্কু হয়ে গেছে। এখানকার ক্ষমতা বাস্তবে নির্ভর করছে একজন নির্দলের সমর্থনের উপর। এখানকার ৮ নং ওয়ার্ড থেকে নির্দল হয়ে জয়ী হন স্থানীয় বিক্ষুদ্ধ তৃণমূল নেতা সোমনাথ কর্মকার। দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য তাঁকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ডও করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেখা যায় ঝালদার মোট ১২ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৫ টি আসন পায় তৃণমূল, ৫ টিতে জয়ী হয় কংগ্রেস। এছাড়া ৮ নং ওয়ার্ড থেকে নির্দল হয়ে জয়ী হন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত সোমনাথ কর্মকার। ৩ নং ওয়ার্ড থেকেও নির্দল প্রার্থী হয়ে জয় পান শিলা চট্টোপাধ্যায়।

ফল ঘোষণার পরই তৃণমূলের পতাকা ধরেন শিলা। এখনও তাঁর বক্তব্য, আমি নির্দল প্রার্থী উওহে জয়ী, কিন্তু তৃণমূলের থেকে বহিষ্কৃতও হইনি। এখন দল যা করবে সেটাই মানবেন তিনি। অন্যদিকে, দলের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সোমনাথ কর্মকারও বলেন, তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এখনও তিনি মনে প্রাণে তৃণমূলের পক্ষে রয়েছেন। তবে তাঁকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া না হলে তিনি যে “অন্য” চিন্তা করবেন সে কথাও জানিয়েছেন। পরিস্থিতি বুঝে দর বাড়াচ্ছেন এই বিজয়ী নির্দল প্রার্থী। কংগ্রেস থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলে স্বীকারও করেন সোমনাথবাবু। তাঁকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ‘চেয়ারম্যানের পদ ‘ র লোভনীয় টোপ দিলে চাপে পড়ে যাবে তৃণমূল একথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

একজন নির্দল সরাসরি তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় এবং বহিষ্কৃত হওয়া প্রাক্তন নেতা আবার দলে ফিরতে চাওয়ায় ঝালদায় বোর্ড গঠন নিশ্চিত হয়ে গেছিল তৃণমূলের। ম্যাজিক ফিগার ৭ চলে আসছিল তাদের। এরমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা চিন্তায় ফেলে দিয়েছে জেলা নেতৃত্বকে। বহিষ্কৃত সোমনাথ কর্মকারকে আপাতত দলে আর নেওয়া যাচ্ছে না তা বুঝে গেছেন জেলা নেতৃত্ব। মুখে সরাসরি একথা অবশ্য বলতে চাননি কোনও নেতাই। তারা রাজ্য কমিটির নির্দেশকেই চূড়ান্ত বলে জানাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল ঝালদা পৌরসভা নিজেদের দখলে আনতে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার।

জেলা কংগ্রেস সভাপতি প্রাক্তন বিধায়ক নেপাল মাহাতো বলেন, “ভোটের ফল বলে দিচ্ছে ঝালদাবাসি তৃণমূলকে পুরসভার ক্ষমতায় চাইছেন না। প্রত্যাখ্যান করেছে। তৃণমূল বোর্ড চাইছেন না তাঁরা।” জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, “ঝালদায় তৃণমূল ক্ষমতায় আসছে। এতে কোনও সন্দেহ নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *