মনসা মন্দিরের জন্য জমিদান করল রামপুরহাটের কেশরী পরিবার

আশিস মণ্ডল, রামপুরহাট, ১ সেপ্টেম্বর : মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করল ছেলে ও নাতিরা। মনসা পুজোর রাতেই মন্দিরের নামে ছয় শতক মূল্যবান জায়গা দান করলেন তারা। মন্দিরের সম্পত্তি বৃদ্ধি হওয়ায় খুশি এলাকার মানুষ।

প্রসঙ্গত, বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সানঘাটা লেট পাড়ায় রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন মনসা মন্দির। নিত্য পুজোর পাশাপাশি প্রতি বছর ভাদ্র মাসের পঞ্চমী তিথিতে বাৎসরিক পুজো হয়ে আসছে। রাস্তার ধারে ছোট্ট মন্দির হওয়ায় জায়গার সংকুলান হত না। তাছাড়া জায়গার অভাবে রাস্তার উপরেই চলত ছাগ বলি। সমস্যা উপলব্ধি করে মন্দিরের সামনের ছয় শতক জায়গা দান করার কথা ঘোষণা করেন স্থানীয় বাসিন্দা গোদাবরী দেবী। তিনি তাঁর ইচ্ছার কথা মৃত্যুর আগে ছেলেদের জানিয়ে যান।

মায়ের সেই ইচ্ছে পূরণ করলেন ছেলেরা। বুধবার রাতে ছেলে ও নাতিরা জায়গার দানপত্রের কাগজ তুলে দিলেন মন্দির কমিটির সভাপতি নবকুমার দাসের হাতে। এই মহতী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রামপুরহাট পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত।

জমি দাতা অরুণ কেশরী, দিলীপ কেশরী, সঞ্জয় কেশরীরা বলেন, “মন্দির কমিটি আমার কাছে আবেদন করেছিলেন। তাছাড়া মায়ের ইচ্ছে ছিল ওই জায়গা মনসা মন্দিরে দান করবেন। মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতেই আমরা ওই মূল্যবান সম্পত্তি দান করলাম। এতে মায়ের আত্মা শান্তি পাবে নির্বিঘ্নে হবে মা মনসার পুজো।”

মন্দিরের সদস্য রাজু লেট, মদন লেট, নির্মল দাসরা বলেন, “জায়গার অভাবে বাৎসরিক পুজোয় খুব সমস্যা হত। বহু দূর দূরান্তের মানুষ এখানে পুজোয় অংশগ্রহণ করেন। মায়ের কাছে মনস্কামনা পূরণ হলে প্রতিবছর পুজো দেন। ফলে প্রতিবছর জমায়েত বাড়ছে। জায়গার অভাবে মন্দিরে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। নতুন করে জায়গা পাওয়ায় এবার আর মানুষের ভির সামলাতে সমস্যা হবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *