পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ আগস্ট: “সৃষ্টিতে যতক্ষণ দ্বিধা থাকে ততক্ষণ সুন্দর দেখা যায় না, সামঞ্জস্য যখন সম্পূর্ণ হয় তখনই সুন্দরের আবির্ভাব।”— এটাই বুঝি এবার কামালপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির আপ্তবাক্য। তাঁদের পরিচালনায় এবছর মাতৃ দেবীর আরাধনার ৭৫ তম বর্ষের উপস্থাপনা “প্রাচীন হস্তশিল্প ও মহামূল্যবান অষ্টধাতুর প্রতিমা”।
চিরাচরিত মাটির প্রতিমার পরিবর্তে এবার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা অষ্ট ধাতুর দ্বারা নির্মীত মূর্তি। বিভিন্ন ধাতবের সংমিশ্রনে এক অভিনব উদ্যোগে এই দুর্গা প্রতিমা নির্মাণের কাজ বহুদিন পূর্বেই শুরু হয়েছে।
মূলত অষ্ট ধাতু হিসাবে সোনা, রূপা, তামা, পিতল, লোহা, সীসা, দস্তা ও পারদ ব্যবহৃত হচ্ছে। বিভিন্ন মূর্তি – ভাস্কর্য বানানো, মোম লাগানো ও কাস্টিং করার প্রক্রিয়া এখন পুরোদমে চলছে। নিঃসন্দেহে এই অষ্ট ধাতুর দ্বারা নির্মীত মাতৃ প্রতিমা সবার নজর কাড়বে।
এর পাশাপাশি সুপ্রাচীন হস্তশিল্প প্রদর্শনীর মধ্যে দিয়েও এক আকর্ষণীয় চিত্র তুলে ধরা হবে। এ যেন এক সুপ্রাচীন হস্তশিল্প মেলায় অষ্ট ধাতুর প্রতিমা দর্শন। আজ ঐতিহ্যবাহী কুটিরশিল্প, হস্তশিল্প ও মৃৎশিল্প যখন অবক্ষয়ের পথে, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে প্রতিমা দর্শনের মধ্য দিয়ে আবার নতুন করে পুনর্জীবন পাবে সেই সুপ্রাচীন প্রসিদ্ধ হস্তশিল্প।
অত্যন্ত নৈপুণ্যের সাথে বৈচিত্র্যময় হস্তশিল্পের পাশাপাশি অষ্ট ধাতুর প্রতিমা নির্মাণের প্রক্রিয়াটিও সুচারুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। তাই এবছর ৭৫তম বর্ষে হারানো সেই গৌরবময় ও ঐতিহ্যবাহী হস্ত শিল্পকে খুঁজে ফিরে পেতে আর সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে অষ্ট ধাতুর দ্বারা নির্মীত মাতৃ প্রতিমা দেখতে আপনাকে আসতেই হবে দাসপুর থানার অন্তর্গত কামালপুর গ্রামের হাট সংলগ্ন পূজামণ্ডপে।

