পুরুলিয়ায় গাছ লাগানোর জিগির তুলতে ‘ট্রি অ্যাম্বুল্যান্সে’র যাত্রা শুরু

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৬ জুলাই: করোনা ভাইরাসের দাপট পরোক্ষ ভাবে অক্সিজেনের চাহিদা ও যোগানের ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়া চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। অক্সিজেনের কৃত্রিম প্ল্যান্ট গড়ে তোলা হলেও বৃক্ষই যে এর মূল উৎস তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আর তাই গাছ লাগানোর উৎসাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে বাড়িয়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে বনদফতর।

পুরুলিয়া জেলায় অন্তত বন মহোৎসব এই উদ্যোগ নিয়েই শুরু হল। পুরুলিয়া শহরের কাছে সুরুলিয়া মিনি জু’তে আনুষ্ঠানিক ভাবে শুরু হয় একটি প্রচার মূলক ‘ট্রি অ্যাম্বুল্যান্স’ উদ্বোধন করে। ওই অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে মানুষকে গাছের চারা তুলে দেওয়া হবে। যাতে ওই গাছ লাগিয়ে বড় করে তুলতে পারেন তার জন্য পরামর্শ দেবে বনদফতর। উদ্বোধনের পরই জু চত্বরে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা লাগানো হয়।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জি সহ বিশিষ্ট অতিথি, বনদফতরের দক্ষিণ পশ্চিম চক্রের মুখ্য বনপাল, বিভাগীয় আধিকারিকরা এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পাহাড় নদী অরণ্যের জেলা পুরুলিয়াতেই রাজ্যের গড় সংখ্যার নিরিখে অর্ধেক জঙ্গল এবং গাছ রয়েছে। এই পরিসংখ্যান ভাবিয়ে তুলেছে। সরকারি ওই পরিসংখ্যান দিয়ে জেলার এক বনাধিকারিক জানান, “পুরুলিয়া জেলার আয়তন ১ লক্ষ ৬১ হাজার হেক্টর প্রায়। বনের পরিমাণ ১০ শতাংশ আর সামাজিক বনসৃজন পশ্চিমবঙ্গের গড়ের নিরিখে অর্ধেক। এটা ভাবিয়ে তুলছে মহামারী পরিস্থিতিতে। তাই আমরা চাইছি এই উৎসবে পুরুলিয়াবাসী সামিল হন। আর পতিত বা চাষের অযোগ্য জমি গাছে ভরে উঠুক।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *