শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হল ঝালদার উপনির্বাচন

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২৬ জুন: শান্তিপূর্ণ ভাবেই শেষ হল ঝালদার উপনির্বাচন। স্বস্তি পেল পুলিশ। রবিবার কাঁটায় কাঁটায় সকাল সাতটায় ঝালদা হাইস্কুলের নির্বাচন কেন্দ্রে শুরু হয় ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া। এখানে দুটি বুথে সকাল থেকে মহিলাদের ভোট দান বেশি সংখ্যায় চোখে পড়ে। ঝালদা পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডে মোট ভোটারের সংখ্যা ১৩৭৯ হলেও সকালের দিকে ভোট দানের হার ছিল কিছুটা কমের দিকেই। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্য বাড়ে ভোটারের সংখ্যা। দুপুরের দিকে একটু ঢিলে তালে ভোট হলেও বিকেলের দিকে আরও অনেকে এসে নিজেদের মতদান করে যান। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৮০. ৮৬ শতাংশ।

উল্লেখ্য, গত ১৩ মার্চ দুষ্কৃতিদের গুলিতে নিহত হন ঝালদা ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তপন কান্দু। কংগ্রেসের এই কাউন্সিলরের হত্যার ঘটনায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় ঝালদাজুড়ে। ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তপন কান্দুর পরিবার। উচ্চ ন্যায়ালয়ের নির্দেশে শুরু হয় সিবিআই তদন্ত। ঘটনায় গ্রেফতার হয় নিহত তপন কান্দুর দাদা এবং ভাইপো সহ মোট পাঁচ জন। কাউন্সিলরের হত্যার ঘটনায় ঝালদা পৌরসভার ২ নং আসনটি রিক্ত হয়ে যায়। এরপর এখানে উপনির্বাচনের নোটিফিকেশন জারি হয়। সেই মতো এদিন ভোটগ্রহণ করা হয়। কংগ্রেসের হয়ে এই আসনে প্রার্থী হন নিহত তপন কান্দুর ভাইপো মিঠুন কান্দু।

অন্যদিকে তৃণমূল এবং বিজেপির হয়ে লড়াইয়ের ময়দানে অবতীর্ণ হন জগন্নাথ রজক ও পরেশ চন্দ্র দাস। প্রচারে তিন পক্ষই পরস্পরকে টক্কর দেবার চেষ্টা করলেও নির্বাচনের দিন অবশ্য অসাধারণ সৌজন্য দেখা গেছে তিন জনের মধ্যে। এদিন ঝালদা হাইস্কুলের ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে সকাল থেকেই পরিস্থিতি ছিল একেবারেই শান্ত। ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করা হলেও পুলিশের হস্তক্ষেপের কোন প্রয়োজনই হয়নি। তিন প্রার্থী নিজেদের মধ্যে অনেকটা সময়ই গল্প করে পার করেন। এক সঙ্গে সাধারণ ভোটারদের সহযোগিতাও করেন তারা। এমনকি একসঙ্গে খাবারও খান। এনিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে কংগ্রেস প্রার্থী মিঠুন কান্দু বলেন, পুরুলিয়া জেলার এটাই বৈশিষ্ট্য। এখানে রাজনীতি শত্রুতায় পর্যবসিত হয়না। শুধু তার কাকার ক্ষেত্রেই এক বিরাত ব্যতিক্রম ঘটে গেছে।

এদিন নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাতো নিজেও। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হয়েছে। এটাই ঝালদার পরম্পরা দাবি করে তিনি বলেন, কিছু তৃণমূলের নেতা এবং পুলিশের চক্রান্তে মাঝে হত্যার ঘটনা ঘটে গেছে এখানে। ঝালদার আইসি সঞ্জীব ঘোষের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গতবার নির্বাচনের সময় এই আইসি থাকার জন্য সঠিক ভাবে নির্বাচন হয়নি। এবার আইসিকে ভোটের সময় সরিয়ে দেবার জন্য কংগ্রেসের তরফ থেকে দাবি তোলা হয়। শেষ পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরানো হয় তাকে। এজন্যই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হল বলে দাবি করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *