শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে দল ছাড়ার হিড়িক, ক্রমশ জোড়ালো হচ্ছে সিপিএমের অন্তর্দ্বন্দ্ব

ছবি-পার্থ মৈত্র (সিপিএমের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য)
আমাদের ভারত, ৯ জুলাই: ক্রমশ ভঙ্গুর হচ্ছে জেলা সিপিএম। শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ প্রকাশ করে একের পর এক দল ছাড়ার হিড়িক সিপিএমের অন্দরে। ক্রমশ জোড়ালো হচ্ছে অন্তর্দ্বন্দ্ব।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগে সিপিএমের দার্জিলিং জেলা কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয় প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা মেয়র পারিষদ মুকুল সেনগুপ্ত’কে। অন্যদিকে, বয়সের কারণে রাজ্য সম্পাদকমন্ডলী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যকে। কিন্তু কয়েকদিন পরেই তাকে আবার আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে সম্পাদকমণ্ডলীতে নিয়ে নেওয়া হয়। যার ফলে ফের জেলা সম্পাদকমন্ডলীতে জায়গা পেয়ে যান অশোক ভট্টাচার্য। এসবের পরই দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ২৬ মে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দেন মুকুল সেনগুপ্ত। এরপর শনিবার আরও ছয় নেতৃত্ব সিপিএম থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দেয়।

এদিন দার্জিলিং জেলা সিপিএমের দলীয় কার্যালয় অনিল বিশ্বাস ভবনে সিপিএমের প্রাক্তন জেলা কমিটির সদস্য পার্থ মৈত্র সহ জ্যোতি দে সরকার, উজ্জ্বল ঘোষ, বিপুল ঘোষ, বিজয় চৌধুরী ও অজিত গাঙ্গুলি অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দেন।

এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পার্থ মৈত্র বলেন, “দলটা ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হচ্ছে, একের পর এক পরাজয়। অথচ তা নিয়ে কোনো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে না। দলের কয়েকজন নেতা সিন্ডিকেট করে দল চালাচ্ছে। দলে থাকতে হলে নেতাদের কথায় চলতে হবে। এক নেতাকে ঘটা করে সম্পাদকমন্ডলীর সভায় অব্যাহতি দেওয়া হল, অন্যদিকে, আবার তাকে ফিরয়ে আনা হল। এসব কেন করা হচ্ছে? ফলে দলের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট হচ্ছে।”

যদিও ওই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি অশোক ভট্টাচার্য। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সিপিএম থেকে অব্যাহতি চাইলেও বামপন্থা ছাড়ছেন না অব্যাহতি চাওয়া নেতৃত্বরা। তাদের সিপিআইতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এর আগে জেলা সম্পাদকমন্ডলী বাছাই নিয়ে দার্জিলিং জেলার দলীয় কার্যালয়েই নেতা ও কর্মী সমর্থকদের একাংশের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে। এবার শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে সিপিএম থেকে অব্যাহতি নিলেন বা দলত্যাগ করলেন পাঁচ নেতৃত্ব। আর তাদের ওই অব্যাহতি চাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দার্জিলিং জেলা সিপিএমের পাশাপাশি রাজনৈতিকমহলে জোর সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিকমহলের মতে, বিধানসভা, শিলিগুড়ি পৌরনিগম ও শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদ নির্বাচনে একের পর এক বামফ্রন্টের পরাজয়ের পর শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা ও তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলতে শুরু করে দলেরই নেতৃত্বের একাংশ। ফলে সিপিএমের অন্দরে গোষ্ঠীকোন্দল একপ্রকার প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *