পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১৪ এপ্রিল: হিলির উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে পাচারের বাড়বাড়ন্ত! কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর রাজ্য সফরের দিনেই দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত পরিদর্শনে আসলেন বিএসএফের ডিজি। ঘুরে দেখলেন কাঁটাতারের ওপারে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া ভারতীয় হাঁড়িপুকুর গ্রাম। কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন সীমান্ত ঘেরার বিষয় নিয়েও।
শুক্রবার দুপুরে আকাশ পথে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটে এসে পৌছান বিএসএফের ডিজি ডক্টর এস আই থাওসেন। সেখান থেকে সড়কপথে হিলির উদ্দেশ্যে রওনা হন। প্রথমেই হিলি ক্যাম্পে নর্থ ফ্রন্টইয়ারের সমস্ত উচ্চপদস্থ বিএসএফ আধিকারিকদের নিয়ে একটি বৈঠক সারেন। যেখানে ডিজি ছাড়াও হাজির ছিলেন আইজি, ডিআইজির মতো বিএসএফের পদস্থ কর্মকর্তারা। এরপরেই হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে হাজির হয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সাথে সৌহার্দ্য বিনিময় করেন ডিজি। কথা বলেন বাংলাদেশের সেনা জওয়ানদের সাথে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়েও। এরপরেই দু’দেশের উন্মুক্ত সীমান্ত বিশেষ করে পাচারের স্বর্গরাজ্য হিসাবে চিহ্নিত হিলির হাঁড়িপুকুর গ্রাম পরিদর্শনে যান ডিজি। ঘুরে দেখেন কাঁটাতারবিহীন গ্রামের বিস্তৃর্ণ এলাকা। এরপরেই ফের বালুরঘাট থেকে আকাশ পথে ফিরে যান ডিজি ডক্টর এসআই থাওসেন।

বাংলাদেশ সীমান্ত বেষ্টিত জেলা দক্ষিণ দিনাজপুর। জেলার ২৫২ কিলোমিটার বর্ডার এলাকার মধ্যে হিলির প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকা উন্মুক্ত সীমান্ত হিসাবে পরিচিত। যে এলাকাগুলির মধ্যে পাচারের অন্যতম করিডর হয়ে উঠেছে হিলির হাঁড়িপুকুর গ্রাম। বিএসএফ সুত্রের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশ ঘেঁষা এই গ্রামকে কাজে লাগিয়েই পাচারকারীরা তাদের দেদার কারবার চালিয়ে চলেছেন। বিগত কয়েক মাসের পরিসংখ্যানে শুধুমাত্র হাঁড়িপুকুর এলাকা থেকেই কয়েক কোটি টাকার সোনা উদ্ধার হয়েছে। শুধু তাই নয়, নেশার যাবতীয় সরঞ্জাম পাচার চলছে এই গ্রামকে ব্যবহার করেই। যে কাজে নিযুক্ত রয়েছে ওই এলাকারই একাধিক ব্যক্তি। যাদের হাত দিয়ে নেশার সামগ্রী থেকে শুরু করে আগ্নেয়াস্ত্র, সোনা, সাপের বিষের মতো বহু মূল্যবান জিনিসের দেদার পাচার চলছে। পরিসংখ্যান দেওয়া বিএসএফের গোপন রিপোর্টের ভিত্তিতেই এদিন আকাশপথে সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আসেন ডিজি। ঘুরে দেখেন হিলির হাঁড়িপুকুর গ্রামের বিস্তৃর্ণ এলাকা। সুত্রের খবর অনুযায়ী, পাচারের এই করিডরগুলিতে দ্রুততার সাথে কাঁটাতারের বেড়া ঘেরার কাজ সম্পূর্ণ করতে চায় বিএসএফ। যে কারণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজ্য সফরের দিনেই তড়িঘড়ি সীমান্ত খতিয়ে দেখে তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট নিয়ে ছুটে যান বিএসএফের ডিজি।
এদিন বিষয়টি জিজ্ঞাসা করতেই বিএসএফের ডিজি ডক্টর এসআই থাওসেন বলেন, নর্থ ফ্রন্টইয়ারের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার হিলি। এখানে এসে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের সেনা জওয়ানদের সাথে কথা বলেছেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তাছাড়া উন্মুক্ত সীমান্ত দিয়ে পাচার রোধ বিএসএফের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ। যেসব এলাকাতে কাঁটাতারের বেড়া ঘেরার কাজ ধাপে ধাপে চলছে। কোথায় কোথায় কাঁটাতার লাগানো প্রয়োজন সেসব আলোচনা করেই বিএসএফ তাদের মতো করে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

