শ্রীরূপা চক্রবর্তী, আমাদের ভারত, ২৩ জুলাই: কখনো গণধর্ষণ, কখনো খুন করে টুকরো টুকরো করে দেহ কেটে ফেলা, কখনো নগ্ন করে ঘোরানোর উল্লাস। না এটাই শেষ নয়। আরও অনেক অনেক ধরণের উদাহরণ রয়েছে নারী নির্যাতনের। কিন্তু উদাহরণের অভাব নারী নির্যাতন থেকে মুক্তির। নারী নির্যাতন ভারতের মতো বিশ্বের সর্ব বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের অন্যতম রাজনৈতিক ইস্যু; যে ইস্যু নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলের নেতা নেত্রীরা শুধুই কাদা ছোড়াছুড়ি করতে ব্যস্ত। মুখে তাদের নারীর সম্মান নারী সুরক্ষার মতো বড় বড় দাবি। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে সবটা শুধুই শূন্য। তাইতো মণিপুরের কানকোকপি, পশ্চিমবঙ্গের মালদা, কামদুনি, পার্কস্ট্রিট, দিল্লির নির্ভয়া, কাশ্মীরের কাঠুয়া, উত্তর প্রদেশের হাথরস, কেরলের মালাপ্পুরম, ভারতবর্ষের কোনো প্রান্তেই সুরক্ষিত নয় নারী। আর তখনই প্রশ্ন ওঠে নারী নির্যাতন কি কেবলই রাজনৈতিক ইস্যু? রাজনৈতিক দলগুলির একে অপরকে কাদা ছোড়াছুড়ি করার সুযোগ?
মণিপুরের ঘটনা সামনে আসতেই সরব মোদী বিরোধীরা। আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছেন তারা মোদী আর বিজেপিকে বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনকারী হিসেবে দেগে দিতে। আবার অন্যদিকে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলতেই তারা বিরোধী শাসিত দলের রাজ্যগুলির নারী নির্যাতনের ঘটনা আঙ্গুল দিয়ে দেখাতে শুরু করেছেন। ফলে হাওড়ার পাঁচলা, মালদার ভগবানগোলায় নগ্ন করে মহিলাদের ঘোরানোর ঘটনা তৃণমূলের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হয়েছে বিজেপির, অর্থাৎ নারী নির্যাতনের ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে রাজনৈতিক হাতিয়ার ছাড়া কিছুই নয় বলে দেখা যাচ্ছে। কারোর কিন্তু এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার কোনো ভাবনা নেই। যে যেখানে ক্ষমতায় আছে সে সেখানকার নারী নির্যাতনের ঘটনাকে লঘু করতে বিরোধীদের এলাকার নারী নির্যাতনের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরার খেলাতেই মত্ত।
কারোর বিন্দুমাত্র ইচ্ছে বা দায় দেখা যায় না এই নারী নির্যাতনের ঘটনা বন্ধ করতে, না পারলেও কমপক্ষে কমানোর চেষ্টা অনন্ত করা। অথচ সকলে শুধু ব্যস্ত নারী নির্যাতনের ঘটনা ও তার সংখ্যা তত্ত্বের হিসেব তুলে ধরতে।
আইন থাকা সত্ত্বেও ক্রমবর্ধমান হারে নারী নির্যাতন বৃদ্ধির কারণ প্রণীত আইনগুলোর বাস্তবায়নে সীমাবদ্ধতা। আইন প্রয়োগ পদ্ধতিতে ত্রুটি। আইন লাগুর ক্ষেত্রে দায়িত্ব, জবাবদিহি, কৌশলের ঘাটতি। বিচারহীন সাংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার মানসিকতা না থাকা। অপরাধী যেই হোক তাকে অপরাধী হিসেবে গণ্য করাই সব রাজনৈতিক দলের অন্যতম দায়িত্ব হওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক ইস্যু নয় মানবাধিকারের বিষয়ে হিসেবে নারী নির্যাতনকে দেখতে হবে রাজনৈতিক নেতাদের।

