অমরজিৎ দে, ঝাড়গ্রাম, ২৫ জুলাই: ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরের ট্রেকার স্ট্যান্ডে হঠাৎ করে মারা যাওয়া বৃদ্ধের পরিচয় অবশেষে জানাগেল। মৃত ওই প্রৌঢ়ের নাম নলিন নাথ। বাড়ি ঝাড়খন্ডের ডোমজুড়ি গ্রামে।
জানাগেছে, গত শনিবার বয়স্ক ওই ব্যক্তি বাড়ি থেকে গোপীবল্লভপুরে এসেছিলেন নদী থেকে মাছ ধরার সরঞ্জাম কেনার জন্য। মাছ ধরার সরঞ্জাম কিনে বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেকার স্ট্যান্ডে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।সেই সময় হঠাৎ পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের।

গতকাল প্রায় সারাদিন গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশ এবং স্থানীয়রা নানান চেষ্টা করেও খোঁজ পাননি মৃত ব্যক্তির পরিচয়ের। অবশেষে রবিবার খোঁজ পাওয়া যায় যে ওই বৃদ্ধের বাড়ি প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খন্ডের ডোমজুড়ি গ্রামে। পরে মৃতের পরিবার থেকে তার ছেলে লক্ষ্মীকান্ত নাথ গোপীবল্লভপুর হাসপাতালের এসে পৌঁছান। কিন্তু তিনি বাবার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঝাড়গ্ৰাম হাসপাতালে এবং সেখান থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই বলে জানান। তখন মৃত ব্যক্তির অসহায় পুত্রের পাশে দাঁড়ান বিশিষ্ট সমাজসেবী সত্যকাম পট্টনায়েক, নয়াবসান জনকল্যাণ বিদ্যাপিঠের শিক্ষক হেরম্বনাথ চক্রবর্তী এবং সুবর্ণ রৈখিক ভাষা চর্চা বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপ “আমারকার ভাষা আমারকার গর্বের” সদস্যরা।তাঁরা মৃতের ছেলের জন্য গাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থা করে দেন যাতে ময়নাতদন্ত এবং সেখান থেকে বাড়ি নিয়ে গিয়ে ছেলে মৃত বাবার সৎকার করতে পারেন।
সুবর্ণ রৈখিক ভাষা চর্চা বিষয়ক ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন বিশ্বজিৎ পাল জানান, গ্রুপের পক্ষ থেকে বৃদ্ধের শ্রাদ্ধ শান্তির জন্য আরও কিছু সাহায্য করা হবে। সব মিলিয়ে গোপীবল্লভপুরের মানবদরদী সত্যকাম পট্টনায়েক, হেরম্বনাথ চক্রবর্তী এবং “আমারকার ভাষা আমারকার গর্ব” ফেসবুক গ্রুপের এই স্বহৃদয়তায় খুশি ঝাড়খন্ড থেকে আসা মৃত বৃদ্ধের পরিবার।

