আমাদের ভারত, ২ অক্টোবর: কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আর্থিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর এই অবস্থাতেই তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারকেই তোপ দেগেছেন বঙ্গ বিজেপি ব্রিগেড। দিল্লি পৌঁছে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। সুকান্ত দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা ও ১০০ দিনের কাজের টাকা না দেওয়ার যে অভিযোগ রাজ্য সরকার তুলেছে তা সর্বৈব মিথ্যে।
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে শনিবার বাড়ির দেওয়াল ভেঙ্গে একই পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। রবিবার সকালে জানাগেছে, বাঁকুড়ার ছাতনায় একই রকম ভাবে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধার। দুটি পরিবারের কেউই কেন্দ্রের আবাস যোজনার টাকা পাননি। এটাই সামনে এনে অভিষেক তথা তৃণমূলের দাবি মৃত চারজনই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার সাম্প্রতিকতম শিকার। তৃণমূল নেতার এই দাবির সমালোচনা করে সুকান্ত বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনীতি করছেন। তাঁর পাল্টা দাবি, রাজ্য সরকার এই মৃতদের পরিবারের সদস্যদের দিল্লিতে এনে রাজনীতি করছেন, কারণ আবাস যোজনা তো আজকের নয়, অনেকটা পুরনো প্রকল্প , তাহলে কেন আগে থেকে ঐসব ব্যক্তিদের বাড়ি দেওয়া হয়নি?”
সুকান্তর দাবি, বঞ্চনার কোনো প্রশ্নই নেই। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত সরকার দিনের পর দিন এই দুই প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি করেছে। এটা নিয়ে কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে তদন্ত করে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়। কেন্দ্রের প্রতিনিধি দল এসেছিল রাজ্যে। কেন্দ্রের তরফে তারাও রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে গেছেন। কিন্তু রাজ্য তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি, বরং যাদের সুবিধা পাওয়ার কথা নয় তাদের দিনের পর দিন বছরের পর বছর সুবিধে দিয়েছে তৃণমূল সরকার। দোতলা, তিন তলা বাড়ি আছে এমন মানুষদেরও প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি দেওয়া হয়েছে।
সুকান্ত দাবি করেছেন, ১০০ দিনের কাজেও দুর্নীতি হয়েছে প্রচুর। যেখানে পুকুর নেই সেখানে পুকুর দেখিয়ে টাকা দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে, এমন বহু উদাহরণ রয়েছে। এভাবেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নিয়ে দুর্নীতি করেছে তৃণমূল। যেসব দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে রাজ্যেকে পরামর্শ দিয়েছিল কেন্দ্র তিন তিনবার, কিন্তু রাজ্য সরকারের তরফে কোনো তথ্য পেশ করা হয়নি। সুকান্ত দাবি করেছেন, “আমার কাছে এমন অজস্র তথ্য রয়েছে যাতে দুর্নীতির অভিযোগ গুনতে গেলে সারা রাত কেটে যাবে।”
সুকান্ত বলেন, জেসিবি দিয়ে কাজ করানো হয়েছে, তারপর ভুয়ো তথ্য পেশ করে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে।

