স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর: আসন্ন শারদোৎসবকে ঘিরে যখন চারদিকে প্রস্তুতি তুঙ্গে, শরতের আকাশে বাতাসে যখন পুজোর আগমনী সুর বাজছে সেই সময় কার্যত শ্মশানের নিস্তব্ধতা প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সির বাড়িতে।
বাঙালির বছরভরের এই উচ্ছ্বাস আনন্দের মুহূর্তেও একাকী, নিঃসঙ্গ পরিবেশে দাঁড়িয়ে রয়েছে উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের শ্রী কলোনীর দাসমুন্সি পরিবারের বাড়িটি। বাড়িতে থাকা দুর্গামন্দির খাঁ খাঁ করছে। একটা সময় পুজোর কটা দিন আনন্দ উৎসবে মুখরিত হয়ে উঠতো প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রায়গঞ্জের সাংসদ প্রিয় রঞ্জন দাসমুন্সির বাড়ির দুর্গাপুজো। গরিব দুঃস্থ থেকে সাধারণ মানুষ, ছোটবড় নেতা নেত্রী থেকে ভিভিআইপি সকলের কাছে প্রাণের পুজো ছিল সকলের প্রিয় প্রিয়দার বাড়ির দুর্গাপুজো। কিন্তু এখন সব কিছুই স্মৃতি। ২০১৭ সালের ২০ নভেম্বর দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর প্রয়াত হন প্রিয়বাবু। স্ত্রী দীপা দাসমুন্সি ছেলে মিছিলকে নিয়ে ইদানিং দিল্লিতেই থাকেন। স্বাভাবিক কারণেই পুজো বন্ধ হয়ে গিয়েছে এই বাড়িতে। অসীম নিঃসঙ্গতাকে সঙ্গী করে অতীত স্মৃতি বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে দাসমুন্সি পরিবারের বাড়ি। আনাচে কাঁনাচে আগাছার বাড়বাড়ন্ত, পুরু ধুলোর আস্তরণ মন্দির চাতালে। শুধু রয়েছে কাঠামোটি। পুজোর কটা দিন গমগম করা দাসমুন্সি বাড়িতে যেন আজ শ্মশানের নিস্তব্ধতা।

কয়েক বছর ঘট পুজো হলেও এবছর একেবারেই বন্ধ রয়েছে পুজো। একসময় পুজোর দিনে আলোয় ভরা পুজো মন্ডপে দেবীর সামনে ঢাক বাজানো থেকে শুরু করে স্ত্রী দীপাকে সাথে নিয়ে ধুনুচি হাতে আরতী করতেও দেখা গিয়েছে প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সিকে। নিজের হাতে হাজার হাজার দুঃস্থ বাসিন্দাদের বস্ত্র বিতরণ কিংবা নবমীর দুপুরে দীপা দাসমুন্সির নিজের হাতে খিচুড়ি বিতরণ এসব আজ অতীতের স্মৃতিমাত্র। তাই পুজো এলে আজো মন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে শ্রীকলোনীর বাসিন্দাদের। আগমনী সুর নয় বিষাদের ছায়ায় আজ আচ্ছন্ন দাসমুন্সি পরিবারের দুর্গামন্দির।

