স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে গালি দিতে পারেন, কিন্তু অবহেলা করতে পারবেন না, অমিতকে জবাব মমতার

রাজেন রায়, কলকাতা, ১১ ফেব্রুয়ারি: রাজনৈতিক আক্রমণে বিরোধীদের প্রতি যতই কটাক্ষের তেজ থাকুক না কেন, ‘লক্ষ্মণরেখা’ বজায় রাখার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, “আমি এমন কোনও কথা বলব না যাতে লক্ষ্মণ রেখা অতিক্রম করে গিয়ে সীতা হরণ হবে। সব রাজনৈতিক দলের এই সৌজন্য রাখা উচিত। সৌজন্যতা একতরফা হয় না।” বৃহস্পতিবার আলিপুরের উত্তীর্ণ স্টেডিয়ামে রাজ্যের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলিকে নিয়ে করা এক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী এভাবেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব দেন।

সেই রাজনৈতিক সৌজন্য বিজেপি বজায় রাখতে পারছে না বলেই এই অনুষ্ঠানে দাবি করেছেন মমতা। পাশাপাশি কটাক্ষে বিঁধেছেন অমিত শাহকে। এ দিন কোচবিহারে সভা ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। সেই প্রসঙ্গ টেনে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান বলেছেন, “তিনি এসে যে কথাগুলো বলে গেলেন, তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, ভাষার কদর্যতা, এবং দৈত্যপরায়ণ মনোভাব, যেন শারীরিকভাবে ধমকানি দিতে এসেছেন।” শাহকে খোঁচা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে গালি দিতে পারেন, কিন্তু ইগনোর (অবহেলা) করতে পারবেন না।’

আর এখানেই মমতার সৌজন্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি কর্মীদের একাংশ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে চাড্ডা ফাড্ডা নাড্ডা গাড্ডা বলে কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেটা কি রাজনৈতিক সৌজন্য, এমন প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

এদিন মমতা আরও বলেন, ‘ওনার বক্তৃতা শুনে মনে হচ্ছিল, ফুচকা খাওয়ার ক্ষমতা নেই, ফুলকো লুচি খাবে। আলু গোভি, আলুর দম দিয়ে। চোরের মায়ের বড় গলা, চালুনি আবার সুঁচের ভুল ধরে। বাংলা বাংলা বাংলা, সারাক্ষণ গালি দিয়ে চলেছে। হোক না গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন। ভয় দেখাচ্ছেন কেন? কী ভাবছেন দিদি বাধ্য হবে? হয়ে যাক একটা খেলা, গণতান্ত্রিক খেলা, রাজনৈতিক খেলা, একদিকে আপনারা থাকবেন, কংগ্রেস-সিপিএমকেও সঙ্গে দিয়ে দিলাম। আমি কিন্তু গোলরক্ষক। দেখি ক’টা গোল দিতে পারেন? আর কে জেতে? আমি মনে করি আমি এখনও স্ট্রিট ফাইটার। আমি সরকারে থাকি আর না, থাকি মানুষের সঙ্গে থাকি। আর আমি সেজন্য গর্বিত।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *