উদয়পুরের মতো অমরাবতী হত্যাকাণ্ডেও এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আমাদের ভারত, ২ জুলাই: নুপুর শর্মার সমর্থনে নেট মাধ্যমে পোস্ট করার অপরাধে বছর ৫৪–র এক কেমিস্টকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে। উদয়পুর হত্যাকাণ্ডের বেশ কয়েকদিন আগেই এই ঘটনা ঘটেছে। আরএসএস এর মুখপত্র অর্গানাইজার উকলির তরফে টুইট করার পরই এই ঘটনা জাতীয় স্তরে প্রকাশ্যে আসে। এবার এই ঘটনাতেও এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

স্থানীয় পুলিশের বক্তব্য, ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ জুন। উমেশ প্রহ্লাদ রাও কোলহে নামে এক কেমিস্ট খুন হন আমরাবতীতে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান নুপুর শর্মার সমর্থনে নেট মাধ্যমে পোস্ট করার ফলেই ওই ব্যক্তিকে খুন করা হয়েছে। ওই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৫ যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অমরাবতীর পুলিশ কমিশনার আরতি সিং বলেছেন, কেমিস্টকে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত ইরফান খান। তার খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে। ইরফান এই হত্যাকাণ্ডের মূল কাণ্ডারী বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।

জানা গেছে, আমরাবতী শহরে একটি ওষুধের দোকান চালাতেন উমেশ। নুপুর শর্মার মন্তব্যের সমর্থনে কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্ট করার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। ভুলবশত ওই পোস্টটি সংখ্যালঘুদের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও পাঠিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, এরপরই উমেশকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। ইরফান এই হত্যাকাণ্ডের ছক কষেছিল। উমেশকে খুনের জন্য বাকি পাঁচ অভিযুক্তকে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেয় সে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গত ২১জুন রাত দশটা থেকে সাড়ে দশটার মধ্যে নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। সেই সময় দোকান থেকে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন উমেশ। একটি অন্য গাড়িতে ছিলেন তার স্ত্রী ও পুত্র। বাইকে করে এসে অভিযুক্তরা উমেশকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে চম্পট দেয়। রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন উমেশ। তাঁর ছেলের সংকেত তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

ছেলে সংকেতের অভিযোগের ভিত্তিতেই যুবকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। এরা সকলেই অমরাবতীর বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে অমরাবতীর বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উমেশ হত্যার ঘটনা ও উদয়পুরের হত্যাকাণ্ডের মধ্যে যোগসুত্র রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *