আমাদের ভারত, ৪ এপ্রিল: দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাসে আর মুঘল সাম্রাজ্য পড়ানো হবে না, ইতিহাস বই থেকে গোটা অধ্যায় বাদ দিয়ে দিয়েছে এনসিইআরটি। দেশের যে সমস্ত স্কুলে ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের বই পড়ানো হয়, সেখানে ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ পড়ে যাবে মুঘল সাম্রাজ্যের অধ্যায়। যদিও এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কিংস অ্যান্ড ক্রনিকালস মুঘল কোর্ট, এই অধ্যায়টি দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তক থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাদ পড়েছে হিন্দি পাঠ্যপুস্তকেরও বেশ কিছু কবিতা ও অনুচ্ছেদ। ২০২৩-২৪ সাল থেকে এই পরিবর্তনগুলি বলবৎ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইতিহাস ও হিন্দি বই ছাড়াও দ্বাদশ শ্রেণির সিভিক্স বইয়ের বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করেছে এনসিআরটি। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বই থেকে আমেরিকান হেজিমনি ইন ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স এবং দ্যা কোল্ড ওয়ার এরা নামের দুটি অধ্যায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বাদশ শ্রেণিতে স্বাধীনতার পরে ভারতের রাজনীতি থেকে জনপ্রিয় আন্দোলনের উত্থান এবং এক পক্ষের আধিপত্যের যুগ নামে দুটি অধ্যায় পরিবর্তন করা হয়েছে।
পাশাপাশি দশম ও একাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকেও পরিবর্তন করা হয়েছে। যেমন গণতন্ত্র এবং বৈচিত্র, জনপ্রিয় সংগ্রাম ও আন্দোলন এবং গণতন্ত্রের চ্যালেঞ্জ বিষয়ক অধ্যায়গুলি দশম শ্রেণির বইয়ের গণতান্ত্রিক রাজনীতি-২ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বদলগুলি এনসিআরটি’য়ের এক উচ্চ আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে। এর আগে ২০১৮ সালে এনসিআরটি স্কুলের সিলেবাস কমানো নিয়ে সরব হয়েছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নমন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর। পড়ুয়াদের সার্বিক বিকাশের জন্য সিলেবাস অর্ধেক কমানো উচিত বলে মত দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় ২০১৯ -এর শিক্ষাবর্ষ থেকে এনসিআরটি সিলেবাস অর্ধেক ছাঁটা হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে সেটা বলবত করতে গিয়ে মুঘল যুগ ইতিহাসের পাতা থেকে বাদ যাওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে যোগী রাজ্যেও দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস থেকে মুঘল ইতিহাসের পর্ব ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্তের খবর সামনে এসেছে।

