আমাদের ভারত, ২৯ মে:
কাঁটাতার পেরিয়ে আসা সকলেকেই কাঁটাতারের ওপারে ফেরত যেতে হবে, সে হিন্দু হোক বা মুসলিম। মালদহের জনসভায় এমনই মন্তব্য করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু কাঁটাতার পেরিয়ে আসা মুসলিমদের অনুপ্রবেশকারী মনে করলেও হিন্দুদের শরণার্থী বলেই মনে করে বিজেপি শিবির। তাই রাজ্যের বিরোধী দলনেতার এই মতকে একান্ত তাঁর ব্যক্তিগত মত বলেই জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। দলের সঙ্গে এই মন্তব্যের কোনো যোগ বলেই রাজ্যবাসীকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন সুকান্ত। তার কথায় আমরা কাউকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে চাই না। দলের অবস্থান তা নয়। শুভেন্দু এ বিষয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মত দিয়েছেন। তিনি জানান, এ বিষয় তিনি শুভেন্দু সঙ্গে কথা বলবেন।
সিএএ কার্যকর করার জন্য রাজ্যের একাধিক বিজেপি বিধায়ক বহুদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আইন কার্যকর হলে বাংলাদেশ থেকে আসা মতুয়া সমাজ ভারতীয় নাগরিকত্ব পাবে। এই মতুয়াদের একটা বৃহৎ অংশ বিজেপির সমর্থক। এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর জনসভায় করা মন্তব্যের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
শুভেন্দু বলেছেন, “৮১ কোটি লোককে প্রধানমন্ত্রী অন্ন সুরক্ষা যোজনা সুবিধা দিতে দুই লক্ষ কোটি টাকা বছরে খরচ করে মোদী সরকার। তাদের জন্য আহারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে। তখন তো আপনাদের ভেদাভেদের কথা মনে পড়ে না। তাহলে কেন এই চোর পার্টিকে ভোট দেবেন? কেন আমাদের সাথে আসবেন না? আমরা রাষ্ট্রবাদীদের সাথেই আছি।” এরপরই তিনি বলেন, “যে কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে ঢুকেছো তাকে কাঁটাতারের বেড়ার ওপারে যেতে হবে। সে হিন্দু হোক আর মুসলিম। কাঁটাতারের বেড়া ডিঙিয়ে এলে তার সঙ্গে কোনো ব্যাপার নেই।” শুভেন্দুর কথায়, যে ভারতের জন্মেছে, যে রাষ্ট্রবাদকে বিশ্বাস করে, জনগণমন-অধিনায়ক, বন্দেমাতরম বলে তার সাথে বিজেপির বিরোধ ছিল না, আজও নেই, কালকেও থাকবে না। আমাদের এই দেশকে, আমাদের এই ভারতবর্ষকে মোদীজির নেতৃত্বে বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ দেশ বানাতে চাই।”
রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের ওই অংশ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে এই বিষয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, “আমরা দেশ থেকে কাউকে তাড়িয়ে দিতে চাই না। অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে সিএএর মাধ্যমে বাকিদের নাগরিকত্ব দিতে চাই। এটাই আমাদের দলের অবস্থান। বিরোধী দলনেতা ঠিক কী বলেছেন আমি জানি না। যা বলেছেন সেটা তার ব্যক্তিগত মত। আমি ওনার সঙ্গে কথা বলে জানাবো, কোন পরিপ্রেক্ষিতে এই কথাটা বলেছেন।” একই সঙ্গে তিনি রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন তাদের উদ্বিগ্ন হবার কোনও কারনই নেই।

