অভিযুক্ত চিকিৎসককে সাম্মানিক উপাধি দেওয়ায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়কে নোটিশ

আমাদের ভারত, কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর: অভিযুক্ত চিকিৎসক সুকুমার মুখার্জিকে সাম্মানিক ডিএসসি দেওয়ার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি এস. আব্দুল নাজির এবং বিচারপতি ভি. রামাসুব্রহ্মণ্যমের ডিভিশন বেঞ্চ শুক্রবার এই নোটিশ দিয়েছেন।

আবেদনকারী চিকিৎসক কুনাল সাহা এ খবর জানিয়ে মেল মারফৎ জানান, “সুপ্রিম কোর্ট (কোর্ট নং ৪, আইটেম নং. ৮) আমার স্পেশাল লিভ আবেদনের শুনানি করেছে (এসএলপি সিভিল নং ১০৬৩৮/২০২২); ড: কুনাল সাহা বনাম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ড: সুকুমার মুখার্জি)। অনুরাধা সাহার অন্যায় মৃত্যুর জন্য দোষী সাব্যস্ত হওয়া সত্ত্বেও এই সম্মানের জেরেই এই নোটিশ।

অনুরাধা সাহার মৃত্যুতে অবহেলার মামলায় ভারতীয় ইতিহাসে চিকিৎসা অবহেলার জন্য সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ (১১.৫ কোটি টাকা) দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের দুটি পৃথক বেঞ্চ। এর কঠোর সমালোচনা সত্ত্বেও এর আগে গত ৬ মে, প্রধান বিচারপতির সভাপতিত্বে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আমার রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়ে বলে সম্মানসূচক ডিএসসি দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একচেটিয়া সিদ্ধান্ত।

ভারতীয় সংবিধানের ১৪৪ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন করে একজন চিকিৎসককে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে দু’বার সর্বোচ্চ আদালত শাস্তি দিয়েছে। তার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে তাঁকে সম্মানিত করায় সুপ্রিম কোর্ট আজ বিস্ময় প্রকাশ করেছে। মামলার পুরো পটভূমি বুঝতে স্পেশাল লিভ পিটিশনের একটি অনুলিপি সংযুক্ত করা হয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে হাজির হয়ে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে এই মামলাটি যুক্তি দিয়েছিলাম।”

১৯৯৮ সালে কলকাতার আমরি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় প্রবাসী ডাক্তার অনুরাধা সাহার। মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই মারা যান তিনি। এর পর থেকে দেড় দশক স্ত্রীর মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা লড়েন স্বামী কুণাল সাহা। কুণালবাবুও প্রবাসী চিকিৎসক। ২০০৯-এর ৭ আগস্ট সর্বোচ্চ আদালত তিন অভিযুক্ত চিকিৎসককে দোষী বলে সাব্যস্ত করে। এর পর ২০১৩-র ২৫ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের অপর বেঞ্চ মামলার রায় শোনায়। কোর্টের নির্দেশে অভিযুক্ত তিন চিকিৎসককে দোষী সাব্যস্ত করে বলে প্রত্যেককে ১০ লক্ষ টাকা করে ডাঃ কুণাল সাহাকে দিতে হবে। দোষ প্রমাণিত হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে ডাঃ কুণাল সাহাকে ৫.৯৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেয় সুপ্রিম কোর্ট। চিকিৎসার গাফিলতি মামলায় এখনও পর্যন্ত ভারতে এটাই সর্বোচ্চ শাস্তি।

২০১১-তে মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকে অভিযুক্ত তিন চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিলের নির্দেশ দেয়। এর পরেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৪ সালে ডাঃ সুকুমার মুখার্জিকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান দিলে আইনি ব্যবস্থা নেন ডাঃ কুণাল ঘোষ। অভিযুক্ত তিন চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিলের মামলাও করেন কুণালবাবু। যদিও ২০১৭-র ১৫ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে সেই আবেদন অগ্রাহ্য হয়। ২০১৯-এর ১ জানুয়ারি কুণালবাবু জানতে পারেন সুকুমার মুখার্জিকে সাম্মানিক ডিএসসি দিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এটি খারিজ করতে কুণালবাবু হাইকোর্টে মামলা করেন। গত ৫ জুন তা আদালতে খারিজ হয়। এর পর তিনি সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন। শুক্রবার সেই মামলার নোটিশ জারি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *