ডিএ নিয়ে রাজ্যের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় হাইকোর্ট, নিষ্পত্তি চাইছেন বিচারপতি

রাজেন রায়, কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর: রাজ্যে মেলা, খেলা, বিনোদন ভাতা থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডার সবেতেই চলছে বিপুল দান-খয়রাতি।  কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বাড়ানো নিয়ে কোনও ভাবেই হেলদোল নেই রাজ্যের। বরং বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে দিনের পর দিন হাইকোর্টে দীর্ঘায়িত হচ্ছে মামলা। বৃহস্পতিবার এই নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। যদিও এদিন রাজ্যের জবাব, ডিএ পাওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনগত অধিকার নয়।

কেন্দ্রীয় সরকারের সমান হারে ডিএ দেওয়া যাচ্ছে না কেন? কেনই বা ডিএ দেওয়ার ভিত্তি হিসাবে অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স মানা সম্ভব হচ্ছে না? বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চের এমনই কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় রাজ্য সরকারকে। এর আগেও একই প্রশ্নের সম্মুখীন একাধিকবার হতে হয়েছিল রাজ্য সরকারকে। এমনকী যে ট্রাইবুনালে যেখানে মূল ডিএ মামলার শুনানি হয়েছিল, সেখানেও একই ধরনের প্রশ্ন ওঠে। ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা যে সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য সেখানেই উল্লেখ করা হয়।

রাজ্যের দায়ের করা রিভিউ পিটিশনের ভিত্তিতে বিচারপতি সৌমেন সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চায়, কেন কেন্দ্রের হারে ডিএ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না? তখন ফের একবার রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল মন্তব্য করেন, “ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনসঙ্গত অধিকার নয়।” রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, ‘রাজ্যের ক্ষমতা অনুযায়ী টাকা দিচ্ছে। আমাদের হিসাব অনুযায়ী ধাপে ধাপে ১২৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া হয়েছে। বাকিটা নিয়েই আলোচনা চলছে।”

ডিএ মামলা যখন শুরু হয়, ট্রাইবুনালের প্রথম বিচারপতি উল্লেখ করেছিলেন যে ডিএ রাজ্যের ‘দয়ার দান।’ এটা রাজ্য চাইলে দিতে পারে, না চাইলে নাও দিতে পারে। পরবর্তী সময় সেই মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সরকারি কর্মচারীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়। তাতে প্রাথমিকভাবে জয় লাভ করলেও এজলাসে শুনানির সময় একাধিকবার এই বিষয়টি ঘুরে-ফিরে এসেছে। যা বৃহস্পতিবার শুনানির সময় ফের উঠে আসে এবং সেই নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছে।

যদিও ডিএ মামলায় এ বার একটা হেস্তনেস্ত করা হতে পারে, এমন একটা ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। কারণ আদালত ঠিক করেছে, আগামী ১৪ এবং ১৫ সেপ্টেম্বর, টানা দু’দিন এই ডিএ মামলার শুনানি করবে হাইকোর্ট। অর্থাৎ একটা বিষয় মোটামুটি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা এ মামলার আদালত খুব শীঘ্রই যবনিকা টানতে চাইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *