ভোট-পরবর্তী হিংসা মামলায় সিটের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হাইকোর্ট, রিপোর্ট জমা সিবিআইয়ের

রাজেন রায়, কলকাতা, ৪ অক্টোবর: মামলার নির্দেশ মেনে ঠিক ৬ সপ্তাহের মধ্যে সোমবার হাইকোর্টে পৃথক পৃথক ভাবে রিপোর্ট জমা করলেন সিবিআই এবং সিটের তদন্তকারী অফিসাররা। হাইকোর্ট সূত্রে খবর, সিবিআইয়ের রিপোর্ট মোটামুটি সন্তুষ্ট হলেও সিটের রিপোর্টে অসন্তুষ্ট প্রধান বিচারপতি। হাইকোর্টের নির্দেশে সিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরকে না জানিয়ে অফিসারদের নিয়োগ এবং প্রাথমিক রিপোর্ট জমা কিভাবে করলেন তারা, এদিন এই প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সিটের আইনজীবীকে বলেন, ‘আপনাদের আদালতে হাজিরার প্রয়োজন নেই। আপনারা তদন্তের কাজ চালিয়ে নিয়ে যাবেন।’ এরপরই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, ‘সিটে অফিসারদের কে নিয়োগ করেছে? আবেদনকারী আইনজীবী রবি শঙ্কর চট্টোপাধ্যায় বলেন, সরকারি আইনজীবীরা একমত হয়ে একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করেছেন। তিনিই এই সিটের অফিসারদের নিয়োগ করেছেন। এর পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এই নিয়োগে স্বচ্ছতা নেই। কে আপনাদের সদস্য নিয়োগে সাহায্য করেছে? এই সদস্যরা কিভাবে কাজ করলেন? প্রাক্তন বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুরের পরামর্শ নিয়েছেন? কোথাও তো তার প্রমাণ নেই।’ একই সঙ্গে বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, সিটের দায়িত্বে থাকা প্রাক্তন বিচারপতি মজুলা চেল্লুরকে নিরাপত্তা দেবে রাজ্য। তার জন্য কথা বলতে হবে তামিলনাড়ু পুলিশের সঙ্গে।

বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ‘সিবিআই কিভাবে কাজ করছে? সিবিআইয়ের আইনজীবী ওয়াই জে দস্তুর বলেন, ‘সিবিআইয়ের ১০৯ জনের টিম চারটি দলে ভাগ হয়ে সারা রাজ্যে তদন্ত করছে। চারজন ডিরেক্টর, তাঁদের অধীনে ১১ জন ডিএসপি থেকে এসপি এবং ইন্সপেক্টর রয়েছেন। যেখানে যেখানে খুন, ধর্ষণের অভিযোগ ছিল, সেখানে গিয়ে পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করেছেন।’ সিবিআইকে প্রধান বিচারপতির প্রশ্ন, কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে? সিবিআই আইনজীবী জানান, “সব অভিযোগের ভিত্তিতে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।”

১৯ অগাস্ট ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে রায় ঘোষণা করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। নির্দেশ মেনে ১৭ অগাস্ট থেকে সিবিআই ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় তদন্ত শুরু করলেও ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ জন দক্ষ আইপিএস অফিসারকে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল রাজ্য সরকারের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম। নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে এদিন দু তরফে রিপোর্ট জমা পড়ার পর দুটি রিপোর্টই খতিয়ে দেখবে হাইকোর্ট। ৮ নভেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *