আমাদের ভারত, কোচবিহার, ১৬ আগস্ট: পাঁচ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে প্রথা মেনে আজও পুজিত হয়ে আসছে কোচবিহারের বড় দেবী। আজ ময়না কাঠের পুজোর মাধ্যমে কোচবিহারের রাজ আমলের বড় দেবীর পুজোর সূচনা হল। গুঞ্জবাড়ির ডাংগরআই মন্দিরে আজ শ্রাবণের শুক্লা অষ্টমীতে যূপচ্ছেদন পুজোর মাধ্যমে দেবীর আরাধনা শুরু হল। এই উপলক্ষ্যে পায়রা বলি দেওয়া হয়। এর পর সন্ধ্যায় পালকি করে এই ময়না কাঠকে মদন মোহন মন্দিরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ময়না কাঠকে মদন বাড়িতে দিয়ে যাবার পর সেখানে ১ মাস পুজো হবে, তার পর রাধা অষ্টমীতে তাকে স্থাপন করা হবে বড় দেবী মন্দিরে। সেখানে তিন দিন হাওয়া খাওয়ানোর এই ময়না কাঠের উপর নির্মিত হবে বড় দেবীর প্রতিমা।

কথিত আছে কোচবিহারের প্রথম রাজা বিশ্বসিংহের সময় এই পুজোর সূচনা হয়, সেই সময় ময়না কাঠকেই দেবী মেনে পুজো দিয়েছিলেন বিশ্বসিংহ ও তার ভাই শিষ্য সিংহ। পরবর্তী কালে ১৫৬০ সাল নাগাদ মহারাজা নর নারায়ণ দেবী মূর্তী তৈরি করে এই পূজোর সূচনা করেন। একসময় এই পুজোতে নর বলি চালু ছিল, তবে এখনো মানুষের রক্তের প্রয়জন হয় বড় দেবীর পুজোতে।
প্রাচীন প্রথা মেনে এখনো পুজিত হন বড় দেবী, এখন মহারাজারা নেই পুজোর দায়িত্ব দেবত্র ট্রাষ্ট বোর্ডের। এই বোর্ড রাজ্য পর্যটন দফতরের অধীন। এই পুজোকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর মানুষের আবেগ লক্ষ্য করা যায়।
বড় দেবীর রুপ রক্তবর্ণা, তার সঙ্গে থাকে না লক্ষী- সরস্বতী, কার্তিক- গনেশ, তার বদলে থাকেন দেবীর দুই সখি জয়া ও বিজয়া। এখানে দেবীর দুই বাহন বাঘ ও সিংহ।


