আমাদের ভারত, কলকাতা, ১৬;আগস্ট: বন্দিদের স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি দেওয়ার ফাইলে সই না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করল গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি (এপিডিআর)।
এক প্রেস বিবৃতিতে এপিডিআর-এর সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত শূর জানিয়েছেন, “সংবাদে প্রকাশ রাজ্যপালের আপত্তিতে ৮০/৮৫ জন বন্দিকে স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি দিতে পারল না রাজ্য সরকার। রাজ্যপালের এই অমানবিক কাজে আমরা বিস্মিত। ”
“প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে ও প্রজাতন্ত্র দিবসে জেলের সেন্টেন্স রিভিউ বোর্ডের সুপারিশে কিছু যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার রীতি বহুদিনের। প্রায় সব রাজ্যই দেয়। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা অন্তত ১৪ বছর জেল খেটেছেন, যাদের বিরুদ্ধে জেলে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ নেই, যারা মুক্তি পেলে নতুন করে অপরাধ করার সম্ভাবনা নেই, এলাকায় ফিরলে শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই – এরকম বন্দিদের নামই মুক্তির জন্য সুপারিশ করে সেন্টন্স রিভিউ বোর্ড। তার আগে মুক্তি-প্রস্তাবিত বন্দিদের বিষয়ে বহু তদন্ত হয়। পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের সমস্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখা হয়। মন্ত্রিসভায়ও পাশ করাতে হয়। ”
“অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে প্রস্তাবিত নামের বেশিরভাগ বন্দিই থাকেন অসুস্থ ও বয়স্ক। এত কিছুর পরেও রাজ্যপাল এসব হতভাগ্য বন্দিদের মুক্তির ফাইলে সই করলেন না৷ এসব বন্দির বেশিরভাগই থাকে গরিব ঘরের। সরকারের সঙ্গে রাজ্যপালের বিরোধের বলি হলেন হতভাগ্য দরিদ্র বন্দিরা। অথচ রাজ্যের জেলগুলি বন্দি সংখ্যার প্রাবল্যে ভেঙে পড়ার অবস্থা।”
“রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে ২০ হাজার বন্দি ধারণ ক্ষমতা, অথচ বন্দি আছে প্রায় ৩০ হাজার। এমনকি ২৫/৩০ বছরের বন্দিও জেলে পচছে। রাজ্যপালের ভুলে যাওয়া উচিত নয় মানবিকতা বলে একটা বিষয আছে যার স্থান অহংয়ের উপরে। তাই আমাদের রাজ্যের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মহাশয়ের কাছে আবেদন, অবিলম্বে মুক্তির জন্য সুপারিশকৃত জেল বন্দিদের মুক্তি দিন। মানবিক হোন। প্রস্তাবিত কোনও নাম নিয়ে তাঁর বিশেষ কারণে আপত্তি থাকলে জনসাধারণকে পরিস্কারভাবে জানান। তুঘলকি আচরণ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
প্রসঙ্গত, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ৮৭ জন বন্দিকে মুক্তি দিতে চেয়েছিল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজ্যপাল ফাইলে অনুমোদন না-দেওয়ায় বন্দি মুক্তি সম্ভব হয়নি। পাল্টা রাজভবনও জানায়, বন্দিমুক্তি সংক্রান্ত ৭টি প্রশ্নের জবাব নবান্নের কাছে জানতে চেয়েছিল রাজভবন। জবাব না-পেয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজি (কারা)-র সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু রাজ্য সরকার এ বিষয়ে সদিচ্ছা না দেখানোয় ফাইলে অনুমোদন দেওয়া সম্ভব হয়নি।

