রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও আমলাতন্ত্র নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ রাজ্যপালের

আমাদের ভারত, ১৩ জুলাই: ফের রাজ্য সরকার, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও আমলাতন্ত্র নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। বুধবার কলকাতা থেকে বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছানা। সেখান থেকে সড়কপথে দার্জিলিংয়ের রাজভবনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জিটিএ চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর। একই সঙ্গে পাহাড় সফরেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার পাহাড় সফরের মাঝে ফের রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করায় রাজনৈতিক মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিন বাগডোগরা বিমানবন্দরে নেমে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকর বলেন, “আমাদের রাজ্যে প্রশাসনিক একাধিক গভীর সমস্যা রয়েছে যেটা সকলেই জানে। কিন্তু ভয়ের কারণে এমনকি সংবাদমাধ্যমও সেসব বিষয়ে কথা বলতে চায় না। রাজ্য যেসব সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে আমি সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের অনুরোধ করব যাতে তারা সেসব নিয়ে সরব হয়। নাগরিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের নিশ্চুপতা আমার কাছে খুব বেদনাদায়ক। আর্থিক বিষয়ে ও আমলাতন্ত্রে সাম্প্রদায়িক পৃষ্ঠপোষকতা ও সাম্প্রদায়িক ক্ষমতায়ন কোনভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। সাম্প্রদায়িক পৃষ্ঠপোষকতা বাস্তবে গণতন্ত্রের মূল্যবোধ বিরোধী। এটা সঠিক সময় যখন নাগরিক সমাজ ও বুদ্ধিজীবীদের সেই বিষয়ে সরব হওয়া উচিৎ।

হাইকোর্টের মত অনুযায়ী রাজ্যের প্রত্যেক কোনায় তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ চলছে। এসব আইনের ভূমিকা নয়। এটা একমাত্র শাসকের শাসন চললেই হয়। গণতন্ত্রে এসবের জায়গা নেই।” এরপরই আমলাতন্ত্র নিয়ে সরব হন রাজ্যপাল। তিনি বলেন, “আমাদের রাজ্যের আমলাতন্ত্র ও প্রশাসন শাসক দলের কড়া নিয়ন্ত্রণে চলছে। বিরোধীদের রাজনৈতিক কর্মসূচি করার কোনো জায়গা নেই। যতদিন পর্যন্ত না আমরা কঠিন পরিশ্রম করছি এসব পরিবর্তন করা যাবে না তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই। গত তিন বছরে আমি রাজ্যে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান উন্নয়ন নিয়ে অনেক বক্তব্য দেখেছি ও কথা শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে সেসব দৃশ্যমান নয়। আমরা যদি এখনই সরব না হই তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *