স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ২২ মার্চ: নদিয়া জেলার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে যে সকল এলাকাতে কাঁটাতার নেই, সেই সকল এলাকাগুলিতে কাঁটাতার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আসলে কাঁটাতারহীন এলাকাগুলি দিয়ে প্রতিদিন অবৈধ পাচার ও অনুপ্রবেশ চলে। সেই পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদিয়া জেলার গোটা সীমান্ত কাঁটাতার দিয়ে মুড়ে ফেলা হবে। এই অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাচার সমস্যা রুখতে ভারত বাংলাদেশ সীমান্তে করিমপুর থেকে ধানতলা থানা পর্যন্ত ২২৯ কিলোমিটার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা। এর মধ্যে প্রায় ৯ কিলোমিটার কাঁটাতারহীন অবস্থা আছে। এর মধ্যে কৃষ্ণগঞ্জ, হাঁসখালি ও চাপড়া এই তিন থানা এলাকায় কাঁটাতারহীন এলাকা বেশি। লোকসভা নির্বাচনের আগে কৃষ্ণগঞ্জ ও হাঁসখালি ব্লক প্রশাসন কাঁটাতারহীন এলাকায় জমি অধিগ্রহণের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। লোকসভা নির্বাচন মিটতেই প্রশাসন এই বিষয়ে ফের তৎপর হয়েছে।
অন্যদিকে বিএসএফও চাইছে কাঁটাতারহীন সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হোক। এই কাঁটাতার দেওয়া শেষ হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছে বিএসএফ। এর আগে বহুবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিএসএফের তরফে দাবি দাওয়া পেশ করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকা ২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার। নদিয়া জেলা সীমান্ত এলাকা ২২৯ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৯ কিলোমিটার কাঁটাতারহীন। কৃষ্ণগঞ্জের গেদে, বিজয়পুর, হাঁসখালির রামনগর, টেংরাপোতা, চাপড়ার মহাখোলা ও হুদোপাড়া এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। এই জেলার কাঁটাতারহীন এলাকাগুলি দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ হামেশাই ঘটে, চলে অবৈধ পাচারও। ওপার বাংলা থেকে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে পড়ে নদিয়ায়। এমনকী জঙ্গি বা সমাজ বিরোধীদের অনুপ্রবেশের ঘটনাও ঘটে। কুখ্যাত সমাজবিরোধীরা এ বাংলায় এসে অপরাধমূলক কাজ ঘটিয়ে সহজেই পালিয়ে যায় বাংলাদেশে। অবৈধ পাচারের মধ্যে গরু পাচার ও সোনা পাচার বেশি চলে। এছাড়াও, ফেনসিডিল, বিদেশী পাখি, গাঁজা সহ নানা সামগ্রী পাচার চলে। বিএসএফ অভিযান চালিয়ে প্রায়শই পাচারকারীদের আটক করে। তাদের কাছ থেকে সোনার বিস্কুট, বিদেশি পাখি, ফেনসিডিল, গাঁজা উদ্ধারও হয়।
উল্লেখ্য, সীমান্ত সমস্যা নতুন কিছু নয়। কাঁটাতারের ওপারে গিয়ে এ জেলার চাষিদের কাজ করতে গিয়ে খুন হতে হয়েছে। এপারে এসেও বাংলাদেশি চাষিরা আক্রান্ত হয়েছে।
সীমান্তের বাসিন্দাদের বক্তব্য, “কাঁটাতারহীন এলাকা পাচারকারীদের মুক্তাঞ্চল। গোরু পাচারের সময় চাষিদের ফসল নষ্ট হয়। কাঁটাতারের বেড়া থাকলে গোরু পাচার খুব একটা সহজ হয় না। এই সব এলাকাগুলিতে কাঁটাতার দেওয়া হয়ে গেলে সীমান্তের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে”।
বিএসএফ সূত্রে জানাগেছে, কাঁটাবিহীন এলাকায় রাতের দিকে হাইমাস লাইট জ্বলে, তার সাথে জওয়ানরা প্রহরায় থাকেন। দিনেও জওয়ানদের প্রহরা দেন। বাংলাদেশের দিক থেকে বা ভারতের দিক থেকে কেউ এলেই আটক করা হয়। এর আগে অনেক পাচারকারীকেও আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর দুই আগে বিডিও গেদে ও বিজয়পুর মৌজায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি অধিগ্রহণের একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। পরে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে একটি বৈঠক হয়। হাঁসখালি ব্লকেও চলতি বছরের প্রথমদিকে রামনগর মৌজায় জমি অধিগ্রহণের জন্য এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে একটি বৈঠক হয়। লোকসভা নির্বাচন চলে আসায় তারপর আর কাজ এগোয়নি। লোকসভা ভোটের পর প্রশাসন ফের উদ্যোগী হয়েছে।
রানাঘাট লোকসভার এমপি জগন্নাথ সরকার বলেন, অনুপ্রবেশের ফলে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা এখানে এসে অসামাজিক কাজকর্ম চালায়। তাই নদিয়ার বেশকিছু এলাকা এখনও সুরক্ষিত নয়। কারণ কাঁটাতারের বেড়া নেই। আর সেখান দিয়েই ঢুকছে অনুপ্রবেশকারীরা। অবৈধভাবে পাচারও চলছে। আর এসবের সঙ্গে এখানকার শাসক দলের নেতারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। দ্রুত যাতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যায়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দরবার করা হবে। খুব শীঘ্রই এই কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরু হবে বলে আমার অনুমান”।

