আমাদের ভারত, ১৩ জুন: রাজ্যের সরকার, পুলিশ প্রশাসন তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করছে। এই অভিযোগ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিষয়টি নিয়ে তারা মামলা করার অনুমতি চেয়েছিলেন আদালতের কাছে। কলকাতা হাইকোর্ট তাদের সেই আবেদন মেনে নিয়ে মামলা রুজু করার অনুমতি দিয়েছেন বলে খবর।
নবী বিতর্কের কারণে হাওড়া জেলার বেশ কিছু অংশে অশান্তি ছড়ায়। বিক্ষোভকারীদের একটা বড় অংশের বিরুদ্ধে বিজেপির কার্যালয় ভাঙ্গচুর ও কর্মীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনার জানার পর কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য হাওড়া যাওয়ার চেষ্টা করেন সুকান্ত শুভেন্দু। কিন্তু তাদের আটকে দেয় পুলিশ। এই ঘটনায় তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন দুই বিজেপি নেতা।
গত শনিবার বেলা ১১টার সময় হাওড়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন সুকান্ত মজুমদার, কিন্তু তিনি নিউটাউনের বাড়ি থেকে বেরনোর আগেই পুলিশ তাকে আটকে দেয়। ব্যাপক বাক বিতণ্ডা হয় সেখানে। সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, তাকে আটকানো মতো কোনো কাগজও পুলিশ দেখাতে পারেনি। পুলিশের সামনে কোনোভাবেই নত হননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি। বেরিয়ে পড়েন হাওড়া যাওয়ার জন্য। শেষ পর্যন্ত তাকে দ্বিতীয় হুগলী সেতুতে গ্রেপ্তার করে লাল বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের এই আচরণের তীব্র প্রতিবাদ করেন তিনি নিজে। বিজেপি তরফে বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ বিক্ষোভ দেখানো হয় সেদিন রাতেই। এরপর রবিবার গান্ধী মূর্তি পাদদেশে বিক্ষোভ দেখান সুকান্ত মজুমদার। শনিবারেই সুকান্ত জানিয়েছিলেন বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ করবেন তিনি।
অন্যদিকে রবিবার হাওড়া যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন শুভেন্দু কিন্তু তাকেও তমলুকেই আটকে দেয় পুলিশ। জানা গেছে, আগেরদিন রাত থেকেই তার বাড়ি ঘিরে রেখেছিল পুলিশ। তিনিও রবিবার গান্ধী মূর্তি পাদদেশে ধর্নায় বসেন ও জানান তিনি এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবেন। রাজ্যজুড়ে বিজেপি তরফে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।

