পুরুলিয়ায় কোভিডের সময় নিয়োগ অস্থায়ী স্বাস্থ্য কর্মীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ২ অগাস্ট: কোভিডের সময় বেসরকারি সংস্থার হাত ধরে নিয়োগ করা অস্থায়ী কর্মীদের ভবিষৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। কোভিড পরিস্থতি না থাকায় স্বাস্থ্য দফতর তথা রাজ্য সরকার সব কিছু বন্ধ করে দিয়েছে। তার মধ্যে এই অস্থায়ী কর্মীদের কাজও রয়েছে। পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এই পরিস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। যেখানে জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক, রোগী কল্যাণ সমিতি, কর্মহারা স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সমাধান সূত্র বের হয়নি। তবে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে বিষয়টি স্বাস্থ্য ভবনে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে সব ধরনের পরিষেবা সচল রাখতে এই সংখ্যক কর্মীরা যে অপরিহার্য তা সেখানে জানানো হবে।

দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সুপার ডা: সুকমল বিষয়ী বলেন, “এই সব কর্মীদের দিয়েই হাসপাতালের পরিষেবা সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। সরকারিভাবে গত ৩১ মার্চ এঁদের কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও দুই দফায় মেয়াদ বর্ধিত হয়েছে। বিভিন্ন তহবিলের অর্থ দিয়ে এঁদের পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে এখন। তবে আমাদের পক্ষে এটা ক্রমাগত রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা স্বাস্থ্য দফতরে গিয়ে সেই পরিস্থিতি তুলে ধরব এবং এঁদের যাতে কাজ অব্যাহত থাকে তার চেষ্টা করব।”

কোভিড ১৯ শুরু হওয়ার পর গোটা রাজ্যের সাথে সাথে পুরুলিয়া জেলাতেও স্বাস্থ্য দফতর বেসরকারি সংস্থার মাধ্যেমে প্রায় ১৫০ জন কর্মীকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করে। মূলত তাঁদের দিয়েই জেলার ২টি কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের পরিচর্যা ছাড়াও কোভিড আক্রান্তদের পরীক্ষা করা, রোগীদের ভর্তি করা। ওয়ার্ডে সাফাই করা, ওয়ার্ড বয়, সিকিউরিটি সহ নানা কাজে যুক্ত করা হয়। লকডাউন চলাকালীন এরাই ছিলেন রোগীদের ভরসা। তাঁদের দিয়েই কোভিড রোগীদের কাছে খাবার পৌঁছনো থেকে তাঁদের যাবতীয় কাজ চালানো হতো। সেই সময় তাঁদের সামাজিক বয়কটের স্বীকার পর্যন্ত হতে হয়েছে বলে দাবী করেন অস্থায়ী কর্মীরা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে চলতি বছরের মার্চ মাসে। তাদের কাজ থেকে বসিয়ে দেবার কথা বলা হবে। অথচ, এরই মধ্যে ২টি বেসরকারি সংস্থার হাত ধরে ২৪১ জনকে নতুনভাবে নিয়োগ করা হয়। কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কোভিডে নিয়োগ ১৫০ জন কর্মীর ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকারে।

এই নিয়েই আজ রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠক বসে পুরুলিয়া দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। উপস্থিত ছিলেন রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো সহ অন্যান্য সদস্যরা। কিন্তু কোনো সুরাহা হল না। যদিও তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার অথবা শুক্রবার কমিটির সদস্যরা রাজ্য নেতৃত্বের সাথে বৈঠক করে সমস্যার সমাধান বের করার চেষ্টা করবেন।

পুরুলিয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক এই কমিটির সদস্য। তিনিও উপস্থিত ছিলেন এই বৈঠকে। তাঁর অভিযোগ, “এই নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে। যারা টাকা দিতে পারেনি তাঁদের জমি লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে। যাঁরা এই নিয়োগ করেছেন তাঁদের দায় নিতে হবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *