অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ৮ এপ্রিল: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বই নিয়ে পরীক্ষায় বসার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত বাতিল হয়ে গেল। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন বরিষ্ঠ শিক্ষাবিদ তথা প্রাক্তন উপাচার্য ডঃ অচিন্ত্য বিশ্বাস।
শুক্রবার রাতে অচিন্ত্যবাবু এই প্রতিবেদককে বলেন, “কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যথায় একটা ভুল বার্তা যেত বিভিন্ন মহলে।শুনেছি, কোনও কোনও পশ্চিমের দেশে ‘ওপেন বুক’ পদ্ধতিতে অর্থাৎ বই নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রযুক্তি শাখায় এই পদ্ধতি প্রয়োগ করার কথা হচ্ছিল। যা বুঝলাম, কোরোনা-উত্তর পরিস্থিতির অজুহাতে এই দাবি এসেছে, প্রধানত ছাত্রদের কাছ থেকে। অন লাইনে পড়লাম, অফ লাইনে পরীক্ষা দেব কেন? এই দাবিতে কোনও আদর্শ নেই।
এই পদ্ধতি মেনেছেন, বিভাগীয় প্রধানরা, সেটা কি এই সেমেস্টারের জন্য? বুঝলাম না। আমার ধারণা, অশান্তি থেকে বাঁচতে এই সিদ্ধান্ত। আরেকটা বিষয় অদ্ভুত লাগল। ৮০ নম্বরের স্থলে ৭০ নম্বর রাখার কথা বলা হয়েছিল এই সেমেস্টারে। আগে ছিল ‘ধারাবাহিক মূল্যায়ন’-এ ২০। সেটা ৩০ নম্বর করার কথা হচ্ছিল। অর্থাৎ, অফলাইনে দেওয়া ছোট ছোট পরীক্ষাগুলির গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছিল।বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম এইভাবে বদলানো যায়?
রাতারাতি বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশী পদ্ধতি গ্রহণ করলে উৎফুল্ল হওয়া যায় না। তাতে অহেতুক বিতর্ক তৈরি করত। সমাজের মনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় সমাজ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে পড়ত। বই নিয়ে পরীক্ষার ওই প্রস্তাব ছিল অবাঞ্ছিত। এইরকম পরীক্ষার দাবি অন্য ফ্যাকাল্টিতেও ছড়িয়ে পড়ত।”
প্রসঙ্গত, শুক্রবার সন্ধ্যায় সারা বাংলা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (আবুটা) যাদবপুর শাখার সম্পাদক গৌতম মাইতি এই প্রতিবেদককে জানান, ‘ওপেন বুক এক্সাম’ অর্থাৎ বই নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তাব ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির সব বোর্ড অফ স্টাডিজ (বিওএস) নাকচ করে দিয়েছে।

