পরিচারিকাদের নিয়ে চড়ুইভাতিতে মাতলেন রামপুরহাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান

আশিস মণ্ডল, আমাদের ভারত, বীরভূম, ২৪ ডিসেম্বর: কেউ বাড়ির পরিচারিকা, কেউবা বিয়ে, অন্নপ্রাশন, শ্রাদ্ধ কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাড়িতে এঁঠো পাতা তুলে সংসারের ঘানি টানতে স্বামীকে সাহায্য করেন। কাজ না করিয়ে কেউ তাদের দু’মুঠো খাবারও দেন না। আমন্ত্রণ জানিয়ে ভুরি ভোজ কিংবা চড়ুইভাতি তাদের কাছে স্বপ্ন। সেই সমস্ত মহিলাদের নিয়ে রবিবার সপরিবারে চড়ুইভাতিতে মাতলেন রামপুরহাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান, বর্তমান কাউন্সিলর সৈয়দ সিরাজ জিম্মি। বিলাসবহুল খোলামেলা রিসর্টে সারাটা দিন কাটাতে পেরে খুশি ফুলি, বালিকা, শেফালী, ববিতা, হেমু বাউরিরা।

বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাউরি পাড়ার অধিকাংশ মহিলা পরিচারিকার কাজ করেন। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ক্যাটারিং সংস্থার সঙ্গে অনুষ্ঠান বাড়িতে এঁঠো পাতা তোলার কাজ করেন। খোলামেলা জায়গায় আমন্ত্রণ জানিয় তাদের ভুরি ভোজ করিয়েছে মনে করতে পারছেন না শেফালী, ববিতারা। সেই সমস্ত মহিলা এবং তাদের বাচ্ছাদের নিয়েই রবিবার রামপুরহাট শহর সংলগ্ন স্বাদীনপুর গ্রামের কাছে একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে চড়ুইভাতি সারলেন সৈয়দ সিরাজ জিম্মি। এদিন মহিলাদের মিউজিক্যাল চেয়ার, চোখ বেঁধে হাঁড়ি ভাঙ্গার প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়েছিল। বাচ্চারা সারাটা দিন কাটালো সুইমিং পুল আর হরেক রকম খেলার সামগ্রীতে।

ফুলি বাউরি, অনিমা দাসরা বলেন, “আমরা সারাটা বছর লোকের এঁঠো পাতা তুলেই আয় করে থাকি। ভালোমন্দ খাবার জুটলেও এভাবে আপ্যায়ন করে, বিলাসবহুল জায়গায় কেউ ডেক খাওায়নি। খুব আনন্দ করলাম”।

বালিকা বাউরি, হেমু বাউরি, শেফালী বাউরিরা বলেন, “আমরা কখনই এমন জায়গায় আসতে পারতাম না। সবটাই হয়েছে সৈয়দ সিরাজ জিম্মির জন্য। উনি আমাদের সঙ্গে এদিন পরিবার নিয়ে কাটালেন। খুব ভালো লাগছে”।

এদিন সকালের মেনুতে ছিল মুড়ি, ঘুগনি, বেগুনি। দুপুরে ভাতের সঙ্গে ডাল, সবজি, পাঁচতরকারি, মুরগির মাংস, দই, পাঁপড়, মিষ্টিতো ছিলই। অন্যান্য দিনের মতো এদিন পাতা তুলতে হয়নি শেফালীদের। উদ্যোক্তারাই সেই কাজে হাত লাগিয়েছিলেন। জিম্মি সাহেব বলেন, “এদিন শেফালী, ফুলি, অনিমারা ছিল আমাদের অতিথি। তাই এদিন ওদের কাজের মধ্যে না রেখে নিজেদের মতো করে আনন্দ করার সুযোগ দিয়েছি। আমিও স্ত্রী আয়েসা সুলতানাকে সঙ্গে নিয়ে সারাটা দিন ওদের সঙ্গে কাটালাম। একটা অন্য অনুভূতি হল ওদের সঙ্গে কাটিয়ে। যেটা মুখে বলে প্রকাশ করা যাবে না। একদিন ওদের সঙ্গে একই টেবিলে খাওয়াদাওয়া করলাম। ওদের মুখের কোনে এক চিলতে হাসি আমাকে পরম আনন্দ দিয়েছে। প্রতিবছর এভাবেই ওদের নিয়ে একটি দিন কাটাবার মনস্থির করলাম”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *