স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ১৯ ডিসেম্বর: ডিসেম্বর মাস এলেই শীতের হিমেল হাওয়া গায়ে মেখে বনভোজনের লোভনীয় হাতছানি। গতানুগতিক জীবনের বাইরে বেড়িয়ে এসে, “কোথাও আমার হারিয়ে যাবার নেই মানা”- সঙ্গে অম্বল, গ্যাসের মতো নিত্যসঙ্গীদের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে যেমন খুশী খাওয়া। তবে করোনাট আবহে ও পরিবেশ রক্ষার তাগিদে এবার রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাসে পিকনিকের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করলো বনদপ্তর। এবিষয়ে বোর্ডও লাগানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।

উল্লেখ্য, রায়গঞ্জ শহর থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে সোহারই, ভট্টদিঘি ও আব্দুলঘাটা– এই তিনটি মৌজার প্রায় ৩০০ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠেছে কুলিক পক্ষীনিবাস। উত্তর-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে জুন মাস থেকে ইগ্রেট, কর্মোর্যান্ট, নাইট হেরন ও ওপেন বিল স্টর্ক পাখিরা এই পক্ষীনিবাসে আসে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে এই পক্ষীনিবাসের শিয়ালমণি, মণিপাড়া পার্ক সহ বিভিন্ন স্থানে শুধু এই জেলারই নয় ভিন্ন জেলা থেকেও প্রচুর মানুষ আসেন পিকনিক করতে। উচ্চস্বরে ডিজে বাজানো, খাবার, প্ল্যাস্টিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলায় দূষিত হয় পরিবেশ। যার প্রভাব পড়ছিল বাস্তুতন্ত্রে। পরিবেশপ্রেমীদের আবেদন মেনে এই পক্ষীনিবাসের পরিবেশ ঠিক রাখতে তাই এবারে পিকনিক বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বনদফতর।

বনদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ফরেস্টের বিভিন্ন জায়গায় গাছের চারা লাগানোর কাজ চলছে। এবছরও পিকনিক করা যাবে না। জঙ্গলে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এবিষয়ে বিভিন্ন জায়গায় বোর্ড লাগানো হয়েছে।

অন্যদিকে জেলা বনাধিকারিক কমল সরকার বলেন, সংরক্ষিত এলাকায় পিকনিক বন্ধ থাকবে। এখনো করোনা পরিস্থিতি রয়েছে। স্বাভাবিক কারণেই এবছরও কুলিক পক্ষীনিবাসে পিকনিক বন্ধ থাকবে। বনদপ্তরের এই সীদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে পরিবেশবিদরা। যদিও এমন সীদ্ধান্তে মন খারাপ পিকনিকপ্রেমী সাধারণ মানুষের।


