রায়গঞ্জের কুলিক বনাঞ্চলে পিকনিকে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বনবিভাগ, মন খারাপ শহরবাসীর

স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২০ ডিসেম্বর: ডিসেম্বর মানেই পিকনিকের আবহ। শীতের মরশুমে হালকা রোদের ছটা গায়ে মেখে প্রকৃতির কোলে বনভোজনে মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। ডিসেম্বরের শুরু থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত এই দৃশ্যের প্রায়ই দেখা মেলে। বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি একই চিত্র দেখা যায় রায়গঞ্জ শহরেও। বিগত ২-৩ বছর আগেও রায়গঞ্জে পিকনিক স্পট বলতে চোখের সামনে ভেসে উঠত কুলিক বনাঞ্চল। যেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন পিকনিক করতে আসতেন। শুধু রায়গঞ্জ কিংবা উত্তর দিনাজপুর জেলাই নয় অন্যান্য জেলা থেকেও মানুষজন ভিড় করতেন কুলিকে। কিন্তু সম্প্রতি সংরক্ষিত এই অঞ্চলে পিকনিকে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বনবিভাগ। বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা ও পাখীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে নির্দিষ্ট আইন অনুসারে এই সীদ্ধান্ত নিয়েছে বনবিভাগ। এবারেও সেই নির্দেশ বলবৎ থাকছে। এমনটাই জানালেন জেলা বনাধিকারিক কমল সরকার। তিনি বলেন, এবছরেও কুলিক বনাঞ্চল কিংবা আব্দুলঘাটা ও শিয়ালমণি অঞ্চলের সংরক্ষিত এলাকায় কোনো রকম পিকনিক বা হৈ-হুল্লোড় করা যাবে না। এরজন্য বনবিভাগের তরফে বাড়তি নজরদারি থাকছে। মোতায়েন থাকছে একাধিক বন কর্মী। তবে সাধারণ মানুষের বিনোদনের জন্য অন্যত্র কোথাও পিকনিক স্পট চিহ্নিত করার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বন বিভাগের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন পরিবেশ ও পশুপ্রেমী সংস্থার কর্ণধার গৌতম তান্তিয়া। তিনি বলেন, যেহেতু বর্তমানে পরিযায়ী পাখি তেমন নেই তাই কিছু জায়গায় বনবিভাগের নজরদারিতে পিকনিক হলে মানুষের সুবিধে হবে। কেননা রায়গঞ্জে এই সব পিকনিকের স্পট। সুতরাং, সমস্ত দিক বজায় রেখে পিকনিকে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে বন বিভাগ এমনটাই মনে করছেন গৌতম বাবু।

এদিকে বনবিভাগের এই নিষেধাজ্ঞায় মন কিছুটা খারাপ শহরবাসীর। রায়গঞ্জের বাসিন্দা আলভা মিত্র, তন্দ্রা চক্রবর্তীরা জানিয়েছেন, এই সময়টায় বাচ্চাদের নিয়ে প্রকৃতির কোলে বসে আনন্দ উচ্ছ্বাস করেন সকলেই। নদীর ধারে সবুজের মাঝে এ এক অন্য অনুভূতি। সেখানে রায়গঞ্জে কুলিক, আব্দুলঘাটা, শিয়ালমণি এলাকায় পিকনিক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা মন খারাপ হচ্ছে। সেই সঙ্গে বনবিভাগের কাছে কোনো বিকল্প ব্যবস্থার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *