পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২ ফেব্রুয়ারি: জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। পশ্চিম মেদিনীপুরে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের পাশে বনদপ্তর, পুলিশ ও পরিবহণ সংস্থা। জঙ্গলপথে হাতি সহ বন্যপ্রাণীদের হাত থেকে সুরক্ষিতভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী হলো বনদপ্তর। সোমবার মেদিনীপুর গ্রামীণের গুড়গুড়িপাল, নয়াগ্রাম প্রভৃতি জঙ্গল সংলগ্ন রাস্তায় ছিল বনদপ্তরের ‘ঐরাবত’ গাড়ি। হুটার বাজিয়ে এসকর্ট করে পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। হাতির হাত থেকে পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে বাঁচিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তৎপর ছিলেন বনকর্মীরা।

অন্যদিকে, আনন্দপুর থানার অধীন সাহসপুর ঘোষাল হাইস্কুলের সামনে দেখা গেল সুন্দর দৃশ্য। আগত পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে পুলিশ কর্মীরা তাঁদের হাতে তুলে দিলেন ফুল ও কলম।
অপরদিকে, পূর্ব ঘোষণামতোই জেলার বাস পরিবহন সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা বিনা ভাড়ায় পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিয়েছে।
অন্যদিকে, মেদিনীপুর শহরের বিধায়ক সুজয় হাজরা, পুরপ্রধান সৌমেন খান প্রমুখের উদ্যোগে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ফুল, কলম ও জলের বোতল দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় এবার পশ্চিম মেদিনীপুরে সামান্য বাড়লো মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা। গত বছর পরীক্ষার্থী ছিল ৫৩১৯৬ জন। এবার রেজিস্ট্রেশন করেছে ৫৮,৭৯০ জন। তবে, শেষপর্যন্ত পরীক্ষা দিলো প্রায় ৫৬ হাজার পরীক্ষার্থী। রবিবার বিকেলে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠকের পর জানান পর্ষদ নিযুক্ত জেলা আহ্বায়ক সুভাষ হাজরা। রবিবারও জেলার দুই ছাত্রীকে অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া হয় বলেও জানান সুভাষবাবু।
অন্যদিকে, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (ডিআই) জানান, ‘প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের মূল প্রবেশদ্বার ও স্ট্রংরুমে থাকছে সিসিটিভি ক্যামেরা। কোন পরীক্ষার্থী যদি মোবাইল নিয়ে যায় তার সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হবে। পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যাপ্ত জল ও আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ১১টি এলিফ্যান্ট করিডোর (হাতি চলাচলের রাস্তা) রয়েছে। সেই এলাকার পরীক্ষার্থীদের বনদপ্তরের তরফে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়া হবে।’

