আমাদের ভারত, হাওড়া, ১ অক্টোবর: বৃহস্পতিবার থেকে ডিভিসি দফায় দফায় আড়াই লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ায় এবং শুক্রবার আরও দেড় লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ায় উদয়নারায়ণপুরের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোরালো হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে জেলার সঙ্গে উদয়নারায়ণপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রশাসনের আশঙ্কা ডিভিসি যদি জল ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়ায় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হবে।

বৃহস্পতিবার ডিভিসির ছাড়া জল রাতেই উদয়নারায়নপুরে ঢুকতে শুরু করে। দামোদরের
১০টি জায়গায় বাঁধ ভাঙ্গার পাশাপাশি ১৫ টি জায়গা থেকে জল উপচে গ্রামে ঢুকতে শুরু করে। এমনকি দ্রুত গতিতে জল ঢুকতে থাকায় শুক্রবার সকালের মধ্যে উদয়নারায়ণপুরের বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। উদয়নারায়ণপুর রাজ্য সড়কের পাশাপাশি হাসপাতাল, কলেজ, বিডিও অফিস থানা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বন্যা দুর্গতদের উদ্ধারের জন্য এনডিআরএফ, এসডিআরএফের পাশাপাশি সেনাবাহিনী নামানো হয়। প্রশাসন সূত্রে খবর, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ টি গ্রাম পঞ্চায়েত পুরোপুরি জলের তলায় চলে গেছে। যেভাবে জলস্তর বাড়ছে তাতে রাতের মধ্যে আরও একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েত জলের তলায় চলে যাবে বলে আশঙ্কা করছে উদয়নারায়ণপুর ব্লক প্রশাসন। ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকা থেকে ১৬ হাজার মানুষকে সরিয়ে ৯২ টি ত্রাণ শিবিরে নিয়ে আসা হয়েছে।

উদয়নারায়ণপুরের বিধায়ক সমীর পাঁজা অভিযোগ করেন, ডিভিসি আচমকা বিপুল পরিমাণ জল ছাড়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

অন্যদিকে শুক্রবার বিকেল থেকেই আমতা ২ নং ব্লকের দীপাঞ্চল ভাটোরায় জল ঢুকতে শুরু করেছে। প্রশাসনের আশঙ্কা রাতের মধ্যে আরও বেশ কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েত জলের তলায় চলে যাবে। আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল জানান, যেভাবে জল বাড়ছে তাতে পরিস্থিতি খারাপ হবে। তিনি বলেন, বন্যা কবলিত এলাকা থেকে মানুষদের উদ্ধারের জন্য এনডিআরএফ,
এসডিআরএফের পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।


