আমাদের ভারত, হাওড়া, ৩ আগস্ট: ডিভিসির জল ছাড়া অব্যাহত থাকায় আমতার বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। সোমবার আমতা ২ নং ব্লকের ৫ টি গ্রাম পঞ্চায়েত প্লাবিত হওয়ার পর মঙ্গলবার আরও একটি গ্রাম পঞ্চায়েত নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। ফলে ব্লকের লক্ষাধিক মানুষ বন্যার কবলে পড়ল। উদয়নারায়ণপুরে জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে এক কিশোরী মারা গেছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা যেভাবে ডিভিসি জল ছাড়ছে তাতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হবে। এদিকে বন্যায় ব্লকে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত দীপাঞ্চল, ভাটোরা, ঘোড়াবেড়িয়া, চিৎনান। এই অঞ্চলের সাথে যোগাযোগকারী বাঁশের সেতুগুলি ভেঙ্গে যাওয়ায় জেলার সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে আমতা জয়পুর ও আমতা উদয়নারায়নপুর রাস্তার উপর কোমর সমান জল দাঁড়িয়ে যাওয়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
অন্যদিকে উদয়নারায়ণপুরের বন্যা পরিস্থিতি আর অবনতি না হলেও উন্নতি হয়নি। প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে ব্লকের ১১ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ লক্ষ ৫৩ হাজার মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। ব্লকের ২৯ টি ত্রাণ শিবিরে ৭৫০০ মানুষকে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। অপরদিকে এদিন জোকা গ্রামে বাড়ির সামনের রাস্তা পার হওয়ার সময় জলের তোড়ে ভেসে গিয়ে মৃত্যু হল এক কিশোরীর। মৃত কিশোরীর নাম রচনা রক্ষিত।

এদিন দুপুরে আমতা ও উদয়নারায়ণপুরের বন্যা পরিস্থিতি দেখেন রাজ্যের সেচমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র। এদিন আমতার বিধায়ক সুকান্ত পালকে সঙ্গে নিয়ে কুলিয়াঘাট পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন ডিভিসির অনিয়ন্ত্রিত জল ছাড়ার ফলেই এই বিপত্তি। তিনি বলেন এই ব্যাপারে একাধিকবার ডিভিসিকে জানানো হলেও তারা কোনরকম কনপাত না করায় বাংলার এই ক্ষতি। মন্ত্রী অভিযোগ করেন এরা বাংলার ভালো চায়না।

