ঝালদায় তপন কান্দু হত্যাকাণ্ডে সিবিআইয়ের প্রথম গ্রেফতার, চার দিনের হেফাজত

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৩ এপ্রিল: তপন কান্দু হত্যাকাণ্ডে প্রথম গ্রেফতার করল সিবিআই। ধৃত সত্যবান পরামানিক নামে ওই ধাবা মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সিবিআই আধিকারিকরা। তাঁর আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া হেঁসাহাতু গ্রামে। পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দু হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার হাতে নেওয়ার পর প্রথম গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা (সিবিআই)। বুধবারই সত্যবান পরামানিককে পুরুলিয়া জেলা আদালতে হাজির করা হয়। চার দিনের সিবিআই হেফাজত হয় তার।

ধৃতের বিরূদ্ধে ৩০২/৩৪ আইপিসি ও ২৫/২৭/৩৫ অস্ত্র আইনে অভিযোগ আনা হয়েছে। খুনের জন্য যে টাকা লেনদেন হয় এবং সেই টাকা উদ্ধার করা ছাড়াও মনে করা হচ্ছে টাকা লেনদেন করা হয়েছে ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। এর আগে ঝালদা শহরের পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক ও অন্য ব্যাঙ্কের ম্যানেজারদের গতকাল ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন সিবিআইয়ের আধিকারিকরা। বিচারক সিবিআইকে ৪ দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেন। যদিও এই খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি সিবিআই। এছাড়াও এই ঘটনার সাথে যুক্ত গুলিচালকদের এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।

ধৃতের আইনজীবী নন্দলাল সিংহানিয়া বলেন, “চার দিনের হেফাজত চাওয়া হয়েছিল। কোর্ট রিমান্ড দিয়েছে।”

ধৃতের ছেলে সৌরভ পরামানিক বলেন, “আমি বাবার সাথে এসেছিলাম গতকাল সিবিআইয়ের কাছে। আমাদের হোটেলে কোনো চক্রান্ত করা হয়নি। সিবিআই তদন্তের ওপর ভরসা আছে। সঠিক ঘটনা বেরিয়ে আসবে। কাউকে ফাঁসাতে পারবে না।”

নিহত তপন কান্দুর স্ত্রী পূর্ণিমা কান্দুর দাবি, এই খুনের ঘটনায় আরও অনেকে যুক্ত আইসি সঞ্জীব ঘোষ ও ঝালদা পৌরসভার চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়াল আমার স্বামীর খুনের সঙ্গে যুক্ত আছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ। সত্যবান নরেন কান্দুর সঙ্গে ঘোরাফেরা করত, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না সেও যুক্ত। সিবিআই তদন্তের ওপর আমার ভরসা আছে।”

বর্তমানে তিনি ঝালদা শহরের হাটতলার বাসিন্দা। সেখানে একটি ধাবাও রয়েছে তাঁর। সেই ধাবার কাছেই নিহত তপনের দাদা নরেন কান্দুর একটি হোটেল রয়েছে। নরেনের ‘ছায়াসঙ্গী’ হিসাবে এলাকায় পরিচিত সত্যবান। নরেনের জমি সংক্রান্ত বেচা কেনার ব্যবসার মধ্যস্থ ব্যক্তি হিসেবে কাজ করতেন।

সিবিআইয়ের আগে তপন হত্যায় গঠিত সিটেরও সন্দেহের তালিকায় ছিলেন সত্যবান। সিটের আধিকারিকরা তাঁকে আটক করেছিলন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। তবে পরে সত্যবান শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তার পর থেকে সত্যবান ছিলেন হেঁসাহাতু গ্রামে, তাঁর বাড়িতে। মঙ্গলবার সেখান থেকেই তাঁকে গাড়িতে করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় সিবিআই। সত্যবান হেঁসাহাতু ফতে সিংহ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মী। তাঁর একটি ধাবা রয়েছে। তাঁর স্ত্রী বিমলা প্রামাণিক ২০১৩ সালে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হন। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *