সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ২৫ ফেব্রুয়ারি: মাঝের একটি দিন বাদেই শুরু হবে পুরনির্বাচনের ভোট গ্ৰহণ। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী আজ বিকাল পাঁচটায় শেষ হবে প্রচারের কাজ। তাই আজ সকাল থেকেই সারা সহর জুড়ে টোটোতে মাইক ব্যনার লাগিয়ে চলছে প্রচার। কেউ কেউ আবার শেষ মুহূর্তে জনসংযোগে ব্যস্ত।সকালের দিকে ছিল শহরের এই চেহারা, কিন্তু দুপুর গড়াতেই এলাকায় এলাকায় মিছিলের ছড়াছড়ি। মোড়ে মোড়ে মাইক, টোটোতে মাইক, মিছিলেও মাইক। মাইক ব্যবহারের এই বাড়বাড়ন্তে জনজীবন দুর্বিষহ।সাধারণ মানুষ নাজেহাল।তার উপর সামনেই মাধ্যমিক পরীক্ষা।পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক সকলেই মাইকের যথেচ্ছ ব্যবহারে ক্ষুব্ধ।

দুপুর গড়াতেই এলাকায় এলাকায় চলছে মিছিলের সারি। মিছিলে এগিয়ে তৃণমূল। পুর এলাকার ২৪টি ওয়ার্ডে এদিন শেষ প্রচার মিছিলের আয়োজন। সেখানে এক এক এলাকায় এক বা একাধিক নেতা হাজির কর্মীদের মনোবল সক্রিয় রাখতে। তালডাংরার বিধায়ক তথা জেলা পরিষদের কো চেয়ারম্যান অরূপ চক্রবর্তী, মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, তৃণমূল জেলা সভাপতি দিব্যেন্দু সিংহ মহাপাত্র সহ এক দল নেতা বিভিন্ন এলাকায় মিছিলে অংশ গ্ৰহণ করেন।
অপরদিকে বিজেপি জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক নিলাদ্রী দানা, সাংসদ সুভাষ সরকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রচার ও মিছিল সহকারে অন্তিম প্রচার চালান।পিছিয়ে নেই বেশ কিছু নির্দল ও বিক্ষুব্ধ তৃণমূল প্রার্থীরাও। এর মধ্যে মিছিলে লোক জমায়েত করে নজর কেড়েছেন সেই সঙ্গে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দিয়েছেন। ৭নং ওয়ার্ডে বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা নির্দল দিলীপ আগরওয়াল, ১৯ নং ওয়ার্ডে বিদ্রোহী তৃণমূলের বিদায়ী কাউন্সিলর অনন্যা চক্রবর্তী,৩নং ওয়ার্ডে বিক্ষুব্ধ তৃণমূল নির্দল প্রার্থী ছায়া পাত্রের মিছিলে লোকজনের উপস্হিতি তাদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছেন।

বোর্ড নিজেদের দখলে রাখতে তৃণমূল মরিয়া, আর সেকারণেই ভোট লুট, অশান্তির আশঙ্কা করছেন বিরোধীরা। ৭ নং ওয়ার্ডে নির্দল প্রার্থী দিলীপ আগরওয়াল অশান্তির আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আমরা কড়া নজর রাখবো, ইতিমধ্যেই পুলিশ সুপারকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। একই আশঙ্কা নির্দল প্রার্থী অনন্যা চক্রবর্তীর নির্বাচনী এজেন্ট মুন্না চক্রবর্তীর।জেলা কংগ্রেস নেতা পবন সেলামপুরিয়া ভোটে ঝামেলা পাকানো ও ছাপ্পা ভোটের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বহিরাগত দুষ্কৃতীদের শহরে জড়ো করে হামলা হতে পারে।এবিষয়ে প্রশাসনের কড়া নজরদারি দরকার বলে তিনি অভিমত প্রকাশ করেন।

