মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্গাপুরে সেচ ক্যানেলে তলিয়ে গেল বাবা

জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ১৫ এপ্রিল: স্নান করতে নেমে তলিয়ে যাওয়া মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যু হল বাবার। শুক্রবার মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে, দুর্গাপুর ব্যারেজ সংলগ্ন সেচ ক্যানেলে। পুলিশ সুত্রে জানাগেছে, মৃতের নাম প্রদীপ ভট্টাচার্য (৪৬)। তার বাড়ি দুর্গাপুরের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের সুকুমারনগর এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রদীপবাবু পেশায় সাইকেল মেরামতির মিস্ত্রি। তাঁর একমাত্র কন্যা প্রাপ্তি (১৩) অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। প্রদীপবাবুর বাড়ির পাশেই দুর্গাপুর ব্যারেজ। ওই ব্যারেজ থেকে একটি বর্ধমান সেচ ক্যানেল গিয়েছে। প্রদীপবাবু সহ ওই এলাকার বাসিন্দারা সেচ ক্যানেলে স্নান করেন প্রায় দিনই। অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া থাকায় শুক্রবার দুপুরে প্রদীপবাবু তাঁর মেয়েকে নিয়ে সেচখালের জলে স্নান করতে গিয়েছিলেন। জলে স্নান করতে নেমে প্রাপ্তি আচমকা জলে তলিয়ে যেতে থাকে। বিষয়টি নজরে পড়তেই প্রদীপবাবু তড়িঘড়ি তাকে বাঁচাতে গভীর জলে চলে যায়। মেয়েকে কোনও রকমে বিপদের সীমারেখা থেকে বাঁচাতে সক্ষম হলেও নিজে জলে তলিয়ে যায়। এলাকার দুই যুবক ঘটনাস্থলের অন্যপ্রান্তে স্নান করার সময় তাদের নজরে পড়ে। তড়িঘড়ি প্রাপ্তিকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসে ওই দুই যুবক। প্রাপ্তিকে উদ্ধার করতে পারলেও প্রদীপবাবু’র কোনও খোঁজ করতে পারেনি।

এদিকে খবর পেয়ে এলাকাবাসী তড়িঘড়ি আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রাপ্তিকে হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোকওভেন থানার পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সেচখালের জলে প্রদীপবাবুর তল্লাশি শুরু করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিপর্যয় মোকাবিলাকারী প্রতিনিধি দল। জলে স্পিড বোড নিয়ে চলতে থাকে তল্লাশি। অন্ধকার নেমে আসায় ওই দিন উদ্ধার কাজ স্থগিত হয়ে যায়। শনিবার সকালে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে সেচখালের জলে প্রদীপবাবুর মৃতদেহ ভেসে থাকতে দেখেন এলাকাবাসীরা। খবর পেয়ে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, “প্রদীপ ভট্টাচার্য সাঁতার জানতেন না। মেয়ে জলে তলিয়ে  যাচ্ছিল। তাকে উদ্ধার করতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। খুব মর্মান্তিক ঘটনা। তাঁর মেয়ে এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।” পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *