স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২৩ এপ্রিল: স্ট্রং রুমে বন্দি উত্তর দিনাজপুরের ১০২ জন প্রার্থীর ভাগ্য। জয়ের আশায় প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন প্রার্থীরা। আর তাদের ভাগ্য নির্ধারনের ইভিএম রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতন্দ্র প্রহরায়। আগামী ২ মে জানা যাবে কার মাথায় উঠবে জয়ের মুকুট।
বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার ৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের। মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটকর্মীরা এসে ইভিএম জমা দিয়েছেন জেলার দুটি ডিসিআরসি পয়েন্টে। আর সেখানেই স্ট্রং রুমে রয়েছে জেলার ৩০৭৬টি বুথের ভোট ভর্তি ইভিএম মেশিন। রায়গঞ্জ মহকুমার পাঁচটি কেন্দ্রের গণনাকেন্দ্র করা হয়েছে রায়গঞ্জ শহরের পলিটেকনিক কলেজে। বিধানভা কেন্দ্রগুলো হল ৩২ নং করণদিঘি, ৩৫ নং রায়গঞ্জ, ৩৩ নং হেমতাবাদ, ৩৪ নং কালিয়াগঞ্জ ও ৩৬ নং ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্র। অপরদিকে ইসলামপুর মহকুমার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের গণনাকেন্দ্র করা হয়েছে ইসলামপুর কলেজে। সেগুলো হল ২৮ চোপড়া, ২৯ ইসলামপুর, ৩০ গোয়ালপোখর এবং ৩১ চাকুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্র। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জেলার ৯ টি বিধানসভার মধ্যে ৬টি বিধানসভা ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে, ১টি কংগ্রেসের, ১টি ফরওয়ার্ড ব্লকের এবং ১টি সিপিএমের। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে জেলায় ৬টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়করা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এঁরা হলেন, রায়গঞ্জের কংগ্রেসের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত, চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমান, ইসলামপুরের তৃণমূল বিধায়ক আবদুল করিম চৌধুরী, চাকুলিয়ার ফরওয়ার্ড ব্লক বিধায়ক আলি ইমরান রামজ, গোয়ালপোখরের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের শ্রম দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী গোলাম রব্বানি, কালিয়াগঞ্জের বিধায়ক তপন দেব সিংহ।
উল্লেখযোগ্য অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা উত্তর দিনাজপুর জেলা যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি গৌতম পাল, ইটাহার বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা উত্তর দিনাজপুর জেলাপরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, জেলা তথা রায়গঞ্জের বিশিষ্ট শিল্পপতি কৃষ্ণ কল্যাণী রায়গঞ্জের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল রায়গঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এই সকল হেভিওয়েট প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামী ২ মে ভোট গণনার মাধ্যমে। আপাতত তাঁদের ভাগ্যের চাবিকাঠি ইভিএম বন্দী হয়ে জেলার দুটি স্ট্রং রুমে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাখা রয়েছে।

