সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকড়া, ১২ ফেব্রুয়ারি: মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করলেও অবসর প্রাপ্ত রাজ্য সরকারি কর্মী অমিয় গোপাল মোহান্তর দেহদান করতে পারলেন না তার পুত্র অভিজিৎ ও পুত্রবধূ পারমিতা মোহান্ত। এই ঘটনায় যারপরনাই হতাশ তারা। আজ রবিবার বাঁকুড়া সম্মীলনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এনাটমি বিভাগ বন্ধ থাকায় দেহ সংগ্ৰহ হয়নি।

অমিয় গোপাল মোহান্তর (৭২) বাড়ি কোতুলপুর থানার রাইবাঘিনী গ্রামে। তবে তার চোখ ২টি দান করা সম্ভব হয়েছে। চোখ সংগ্ৰহ করে দুর্গাপুর ব্লাইন্ড রিলিফ সোসাইটি। দেহদান করতে না পারলেও চোখ দান করা সম্ভব হয়েছে এই সান্ত্বনা নিয়ে মরদেহ রাইবাঘিনী গ্ৰামে নিয়ে গিয়ে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করলেন অভিজিৎ বাবু।
কয়েকদিন আগে অমিয় গোপাল মোহান্ত, তার জামাই সিপিআইএমের জেলা নেতৃত্ব বড়জোড়ার সুজয় চৌধুরীর বাড়িতে এসেছিলেন। সুজয় চৌধুরী বলেন, তিনি দীর্ঘদিন কিডনির অসুখে ভুগলেও ভালোই ছিলেন। রবিবার ভোর ৩ টা ৪০ নাগাদ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনি একবছর আগে মরণোত্তর দেহদান করে যান। তার শেষ ইচ্ছে পূরণ হল না। তিনি বলেন, হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জানানো হয় সোমবার পর্যন্ত মরদেহ আমাদেরই সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। তারপর দেহদান প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেটা সম্ভব হল না বলেই দেহটি সৎকার করতে বাধ্য হলাম।

